প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে চট্টগ্রামে নির্বাচনী হাওয়া
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জনসভা ঘিরে প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। যেন চট্টগ্রামজুড়ে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। নগর-উপজেলার প্রতিটি সড়ক-উপসড়ক, অলিগলিতে মাইকিং চলছে। পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকেই নির্বাচনী জনসভা শুরু হচ্ছে। এ জনসভা থেকে নির্বাচনেরও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তাই বিপুল লোকসমাগম ঘটিয়ে দলের শক্তি ও জনসমর্থনের প্রমাণ দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ। দলীয় সমর্থকদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
এদিকে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের জনসভাকে ঘিরে নগরজুড়ে এখন সাজ-সাজ রব। জনসভাকে ঘিরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়-স্থানসমূহে এসব পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, চট্টগ্রামের জনসভা থেকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে বিজয়ের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে হয়তো তিনি জনগণের কাছে আগামীর চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ সম্পর্কে বার্তা পাঠাতে পারেন। তিনি আরো বলেন, স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই চট্টগ্রামের মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে ও থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে বর্ণিল ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুন-তোরণে ছেয়ে গেছে বন্দরনগরী। জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নানা কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি চলছে নানা ধরনের সভা ও বৈঠক। সমাবেশস্থলের আশপাশ থেকে শুরু করে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এখন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুনে সয়লাব। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। প্রতিদিনই মিনি ট্রাকে করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন
নেতাকর্মীরা। এছাড়া নগরের মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে চলছে মাইকিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজছে চট্টগ্রাম। রংতুলির আঁচড়ে বিবর্ণতা দূর করে নবরূপ পেতে চলেছে বন্দরনগরী। ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে দ্রুত। ফুটপাত, সড়কদ্বীপ, ফ্লাইওভারে পড়ছে রংয়ের ছোঁয়া। প্রধানমন্ত্রীর আগমন আনন্দঘন করতে নগরের রাস্তাঘাট ও স্থাপত্যগুলোকে প্রাণ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া নগরীর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ফ্লাইওভার থেকে এমএ মান্নান ফ্লাইওভারের মাঝের অংশটির ল্যাম্প পোস্টে ৭০-এর নির্বাচনে বিজয় ও স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার আকৃতিতে এলইডি বাতি লাগিয়ে আলোকসজ্জা করেছে চসিকর বিদ্যুৎ বিভাগ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের কাঁধে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারো হয়তো চট্টগ্রামবাসীকে নিরাশ করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম নগরীকে সাজিয়ে তুলতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। নতুন করে রং করা হয়েছে নগরীর প্রধান ও বড় দুই ফ্লাইওভার, নগরীর প্রতিটি সড়ক ডিভাইডার, সড়কদ্বীপসমূহ নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠে মহাসমাবেশকে ঘিরে সমগ্র চট্টগ্রাম এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এ জনসভা। নগরীর ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ সমাবেশে যোগদান করবে। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমর্থকরা যোগ দেবেন জনসভায়। পলোগ্রাউন্ডের বাইরে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকবে মাইক।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৮ মার্চ নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর একই মাঠে আবারো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই এ জনসভা সফল করতে প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভায় নৌকার আদলে তৈরি হচ্ছে ১৬০ ফুট দৈর্ঘের মঞ্চ। মঞ্চের মাঝখানের ৪০-৮০ ফুটের মধ্যে একসঙ্গে ২০০ অতিথি বসতে পারবেন। মঞ্চের উচ্চতা হবে সাত ফুট। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচারে পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের এলাকায় লাগানো হবে ঢাকা থেকে আনা ‘কলরেডি’র ১৫০টি মাইক। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আশপাশের মানুষ যাতে শুনতে পারে এজন্য থাকবে ৩০০ মাইক। এদিন ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ।
