সোনারগাঁওয়ে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস
আবদুস ছাত্তার, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। আসনটিতে এবার মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, ফলে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ও বাড়ছে উৎকন্ঠা।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত তিন বারের সংসদ সদস্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলেও বাস্তবে ভোটের মাঠে হেভিওয়েট হিসেবে চারজন প্রার্থীই ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও গিয়াস উদ্দিন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছেন এবং তারও রয়েছে শক্তিশালী রিজার্ভ ভোট ব্যাংক। তবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই প্রভাবশালী নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ও জামায়াত ইসলামী প্রার্থী মাঠ পর্যায়ে বিশাল ভোট ব্যাংক থাকায় কারণে ভোটে চতুর্মুখী লড়াইয়ের মধ্যে পড়েছে বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।
অন্যদিকে রাজনৈতিক ইতিহাসে এই আসনটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে অধ্যাপক রেজাউল করিম ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ যুক্ত হওয়ার পর ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ভোট ব্যাংক গড়ে ওঠে, যা বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক যে দিকে যাবে, সেই দিকেই ঘুরে যেতে পারে পুরো আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। ফলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ফলাফল নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭হাজার ৬৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। সোনারগাঁও উপজেলায় ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬১ জন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ভোটার ২ লাখ ২৩ হাজার ৮১২ জন।
