যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক পাচ্ছে বাংলাদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১-এর আওতায় বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নতুন ঘোষণার আওতায় ওয়াশিংটন ডিসির সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুল্কহার কার্যকর হয়েছে। এ ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন শুল্ক ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সেকশন ১২২-এর অধীনে কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন শুল্কব্যবস্থা চালু হলো।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে, যা বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা হবে। বিশ্বের ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রয়েছে এবং বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। ফলে এসব দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও বাড়বে।
এছাড়া ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছরের একটি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ওপর সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সরকারের মতে, এ সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও জোরদারে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।
