×

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনহীন: বেতন-ভাতায় কোটি কোটি টাকা অপচয়

Icon

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া থেকে

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনহীন: বেতন-ভাতায় কোটি কোটি টাকা অপচয়

ছবি: কাগজ প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের পুরোনো ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর একটি, যা এখন কার্যত উৎপাদনহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। নীতিগতভাবে এ কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, একই সঙ্গে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখানে কোনো প্রোডাক্টিভিটি তৈরি হয়নি; বরং শুধু বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের নামে নিয়মিত কোটি কোটি টাকা ব্যায় হচ্ছে। 

বিভিন্ন সময়ের সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ার পরও বছরে গড়ে কয়েক কোটি টাকা শুধু রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল ব্যয়ে খরচ হয়েছে; কিছু বছরে এই অঙ্ক ৭ থেকে ১০-১২ কোটির ঘরেও উঠেছে বলে উল্লেখ আছে।

মাসিক হিসেবে হিসাব করলে কেবল বেতন-ভাতা ও চালু অবকাঠামো ধরে রাখার পেছনেই গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ব্যয় হয়েছে, অথচ এর বিপরীতে কোনো বাস্তব আউটপুট বা বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল না। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, ভেড়ামারা প্ল্যান্টে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উল্লেখযোগ্য অংশকে মাসের পর মাস কার্যত “বসে থেকে বেতন নেওয়া” বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কেন্দ্রটি নিয়মিত উৎপাদনে না থাকায় প্রকৃত অপারেশনাল কাজ সীমিত, কিন্তু জনবল কাঠামো অনেক দিন ধরে আগের মতোই বহাল থাকায় বেতন-ভাতা খাতে মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, যা মিলিয়ে প্রতিবছরই সরকারের বাজেট থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্ক গিয়ে পড়ছে একটি কার্যত অচল প্ল্যান্টের পেছনে। বিদ্যুৎ নেই, আয় নেই—শুধু খরচ; সরল ভাষায়, পুরো ব্যবস্থাটাই রাষ্ট্রীয় সম্পদের সরাসরি অপচয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ভেড়ামারা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সেখানে সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে দেখা গেছে চরম ধীরগতি। যদি সময়মতো সোলার প্রকল্প বাস্তবায়িত হতো, সে ক্ষেত্রে ওই একই জমি, অবকাঠামো ও জনবলকে আংশিক বা পুরোপুরি ব্যবহার করে অন্তত কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আয় আসত। সেই আয় দিয়ে অন্তত অংশবিশেষ বেতন-ভাতা ও পরিচালন ব্যয় এডজাস্ট করা যেত, আর প্রকল্পটি নিজেও একটি প্রোডাক্টিভ ইউনিটে পরিণত হত। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা—একদিকে অচল প্ল্যান্ট, অন্যদিকে বিলম্বিত সোলার প্রকল্প; মাঝখানে শুধু সরকারি অর্থের ধারাবাহিক অপচয় ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। এ কারণে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের এক অংশের ভাষায়, ভেড়ামারা এখন “প্রোডাক্টিভিটি শূন্য, কিন্তু ব্যয় পূর্ণ”—যা নীতিগত সিদ্ধান্ত ঠিক থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন বিদেশি প্রকৌশলীরা

এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন বিদেশি প্রকৌশলীরা

‘আর্টিকেল ৫১’ কি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?

‘আর্টিকেল ৫১’ কি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?

অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই, প্রাপ্য সবার কাছে পৌঁছাবে

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই, প্রাপ্য সবার কাছে পৌঁছাবে

পাকিস্তানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১২ সেনা সদস্যসহ নিহত ১৫

পাকিস্তানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১২ সেনা সদস্যসহ নিহত ১৫

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App