এসি সার্ভিসিং করতে আসা ব্যক্তিরাই গৃহবধূ তানিয়াকে হত্যা করে!
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২২, ০২:৫৩ পিএম
এসি সার্ভিসিং করতে আসা ব্যক্তিরাই রাজধানীর সবুজবাগ দক্ষিণগাঁওয়ের গৃহিণী তানিয়া আফরোজ মুক্তাকে (২৮) হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে তার স্বামী মাইনুল ইসলাম। বাসায় আলমিরা থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার সময় দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
ময়নাতদন্তের জন্য গতরাতে থানা পুলিশ তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। রবিবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে মর্গে যান তার স্বামী মাইনুল ইসলাম। এ সময় মর্গের স্টেচারে স্ত্রীর লাশ দেখে আহাজারি শুরু করেন তিনি।
ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের ইলেক্ট্রো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে চাকুরি করেন মাইনুল। ৮ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন তানিয়াকে। মায়মুন (৪) ও তানভিরুল ইসলাম নামে ১০ মাসের ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের।
তিনি বলেন, গতকাল শনিবার বেলা ৩টা ৫২মিনিটে তানিয়া তাকে ফোন দিয়েছিলো। এসি সার্ভিসিংয়ের জন্য বাসায় কয়েকজন লোক এসেছে বলে জানায়। তখন মাইনুল স্ত্রীর ফোনের মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই ব্যক্তিরা বলেন, “কয়েক মাস আগে আপনাদের এসি সার্ভিসিং করে দিয়ে গেছি। তাই আবার আসলাম, সার্ভিসিং করা লাগবে কিনা তা জানতে।” তখন মাইনুল তাদেরকে বলেন, এখন সার্ভিসিং লাগবেনা। পরে প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করবেন। তখন তানিয়াকেও বলেন তাদেরকে বিদায় করে দিতে।
রাতে মুগদা হাসপাতালের পরিচিত একজন তাকে ফোন দিয়ে জানান, তার ছেলে তানভিরুল ওই হাসপাতালে ভর্তি। বিষয়টি জানার জন্য তখন তিনি স্ত্রী তানিয়ার ফোনে কল করেন। কেউ রিসিভ না করায় পরে বাড়িওয়ালার কাছে ফোন করলে বাড়িওয়ালা তাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। এরপর রাতে ফরিদপুর থেকে ঢাকার বাসায় গিয়ে স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তিনি।
মাইনুল ইসলাম বলেন, আমার সন্দেহ ওই ব্যক্তিরা তানিয়াকে ভুলিয়ে বাসায় ঢুকে এসি সার্ভিসিং করছিলো। কারণ তিনি রাতে বাসায় গিয়ে এসির কাভার খোলা অবস্থায় দেখতে পান। তারা এসির কাজ করার সময় হয়তো আলমিরা খুলে সেখানে হাতাহাতি করছিলো। তখন তানিয়া দেখে ফেলায় তারা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আলমিরার জামাকাপড়ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।
এদিকে, মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিনা আউয়াল। সুরতহালে তিনি উল্লেখ করেন, নিহত তানিয়ার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে, ডান কানের নিচে কাটা ক্ষত, মাথার মাঝখানে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ ও মাথার পিছনের অংশে ডান কানের লতি থেকে বাম কান পর্যন্ত ১১ ইঞ্চি পরিমাণ কাটা, ডান কাধের পিছনে সাড়ে ৮ ইঞ্চি পরিমাণ কাটা ক্ষত রয়েছে।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে সবুজবাগ দক্ষিণগাঁও বেগুনবাড়ি মাস্টার গলির মজিবর রহমানের বাড়ির ২য় তলা থেকে তানিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসাটি থেকে নিহতের ছেলে ও মেয়েকে মুখে স্কচটেপ পেচানো অবস্থায় উদ্ধার করে।
তানিয়ার বাড়ি রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলায়। বাবার নাম মিস্টার মিয়া। তানিয়ার ছেলে শিশু তানভিরুল মুগদা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানান স্বজনরা।
