পুলিশের দাবি ট্র্যাকিংয়ে ছিল গাড়িটি
তিন দিন পর তুরাগে চালক লোকমানের লাশ
মাহফুজ খান
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কুড়িল থেকে প্রাইভেটকারসহ নিখোঁজ হওয়া চালক মো. লোকমান সরকারের (৪০) মরদেহ ৩ দিন পর তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভাটারা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে প্রথমে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তারা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়ি ও চালকের অবস্থান ট্র্যাকিং করছিলেন। তবে এখনও নিহতের প্রাইভেটকারটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
সোমবার (১ জুন) লোকমান সরকারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লোকমান তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে নিয়ে ভাটারা থানার কুড়িল মধ্যপাড়া এলাকায় থাকতেন এবং ভাড়ায় চালিত হালকা গাড়ি চালাতেন।
অভিযোগ ও পুলিশের কল ডিটেইলস রেকর্ড অ্যানালিসিস ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে রাতে কুড়িল পিনাকল পাম্পের সামনে থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা চালক লোকমান সরকার ও তার ঢাকা মেট্রো গ-২৪-১৬৬৪ নম্বরের টয়োটা এক্সিও গাড়িটি ভাড়ার কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই লোকমান নিখোঁজ ছিলেন। ৩১ মে নিহতের স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
পরিবারের অভিযোগ ছিল, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে। তবে ভাটারা থানা পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তারা তদন্ত শুরু করেন।
পুলিশের কল ডিটেইলস রেকর্ড এবং প্রযুক্তিগত অ্যানালিসিস বলছে, ঘটনার রাতে যাত্রীবেশে অপরাধীরা গুলশান এলাকা থেকে লোকমানের গাড়িটিতে ওঠে। এরপর গাড়িটি গুলশান থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় যায়। চাষাড়া থেকে পরবর্তীতে গাড়িটি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই অপহৃত চালক লোকমানের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়।
আজ নিখোঁজের ৩ দিন পর তুরাগ নদী থেকে লোকমান সরকারের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার লোকমানের সাথে থাকা প্রাইভেটকারটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে অপহরণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ভাটারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু মরদেহটি তুরাগ থানা এলাকায় পাওয়া গেছে, তাই নিয়মানুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া তুরাগ থানাই সম্পন্ন করবে। তবে অপরাধী শনাক্ত এবং গাড়িটি উদ্ধারে ভাটারা থানা পুলিশ তুরাগ থানাকে সব ধরনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
