ওঝার একি কাণ্ড
দাফনের দুদিন পর লাশ ‘জীবিত’ করার চেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিষাক্ত সাপের কামড়ে এক নারীর মৃত্যুর দুদিন পর তাকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে গাজী মিয়া নামের ওই ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ওই নারীকে জীবিত করা সম্ভব। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) তিনি কবরের একপাশে সামান্য সুরঙ্গের মতো করে মাটি খুঁড়ে সেখানে গন্ধ শুকে দেখেন। পরে দাবি করেন, তিনি তেলের গন্ধ পেয়েছেন। বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যাওয়া ওই নারীর নাম হাসনা বেগম (৫৮)। তিনি সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত ওয়াজেদ আলী। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিষাক্ত সাপের কামড়ের পর স্বজনেরা তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে তার মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদী সরকারের নীতির অভাবে কৃষি-মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: শামা ওবায়েদ
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সাপে কাটার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলানপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামের ওই ওঝা সেখানে আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি।
ওঝা হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি বার কবরের পাশে আসবেন। তখন কবরের গন্ধ শুকে যদি দুর্গন্ধ না পাওয়া যায়, তাহলে লাশ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব। তবে লাশে পচন ধরে গেলে আর তাকে জীবিত করা সম্ভব হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
খালেদা বেগম বলেন, গতকাল আমার মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় অপেক্ষাও করছিলাম। কিন্তু আধা ঘণ্টা আগে ওই ওঝা আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন মা বেঁচে নেই। এখন আশাহত হলাম। রোববার দুপুরে খালেদা বেগমের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে গাজী মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, গতকাল তিনি জীবিত ছিলেন। এখন ওই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, এটি একটি অকল্পনীয় বিষয়। একজন মৃত ব্যক্তিকে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং তাকে কবরও দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই নারী আবার বেঁচে উঠবেন—এমন দাবি হাস্যকর ও অকল্পনীয়। ওই ওঝাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা দরকার।
তিনি বলেন, সাপে কাটার পর কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে কবর দেওয়ার পর ঝাড়ফুঁক করে তাকে জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে।
