হিজড়াদের ‘গুরুমা’ সেই মৌসুমীর মরদেহ মিলল নিজ ঘরে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় একটি বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়ার বয়স ৫২ বছর। স্থানীয়ভাবে হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি অংশের কাছে তিনি ‘গুরুমা’ নামে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আমবাগান রেলওয়ে কলোনির পাশে হিজড়া কলোনির একটি বাসা থেকে মৌসুমীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাসায় থাকা টাকা এবং তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মৌসুমীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে জড়ো হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বাসায় একাই থাকতেন মৌসুমী। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় দুইটা পর্যন্ত তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোররাতে পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার ঘর থেকে বাগ্বিতণ্ডার আওয়াজ শুনলেও পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলছেন ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
আরও পড়ুন: ভাইরাল এএসআইয়ের নাচ-গান, অতঃপর...
সকালে দীর্ঘ সময় মৌসুমীর কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা তার খোঁজ নিতে যান। তখন বাসার দরজা খোলা দেখতে পান তারা। ভেতরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর মৌসুমীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম। তিনি জানান, মৌসুমীর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার রয়েছে। গতকাল ওই খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়েছিল। গরু বিক্রির টাকা মৌসুমীর কাছে ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। শনিবার সকালে তার গরু কেনার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার পর থেকে ওই টাকা এবং তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
