বদলে যাচ্ছে মানচিত্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পরিচিত মানচিত্রের চিত্র বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শত শত বছর ধরে প্রচলিত মার্কেটর প্রজেকশনের পরিবর্তে দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে।
আমাদের পরিচিত বিশ্ব মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে বিশাল একটি ভূখণ্ড হিসেবে দেখা গেলেও বাস্তবের সঙ্গে এর আকারের বড় পার্থক্য রয়েছে। মানচিত্রে অনেক সময় গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকা মহাদেশ এর চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় মানচিত্রকর জেরার্ডাস মার্কেটর সমুদ্রযাত্রায় নৌপথ নির্ধারণের সুবিধার জন্য বিশেষ ধরনের একটি মানচিত্র প্রজেকশন তৈরি করেন। পরবর্তীতে সেটিই বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত মানচিত্রগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
তবে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল কাগজে উপস্থাপন করতে গিয়ে মার্কেটর প্রজেকশনে আয়তনের বিকৃতি তৈরি হয়। বিশেষ করে বিষুবরেখা থেকে দূরের অঞ্চলগুলো বাস্তবের তুলনায় বড় দেখায়, অন্যদিকে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকা অঞ্চলগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলনামূলক ছোট বলে মনে হয়।
এর ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অনেক অঞ্চল মানচিত্রে প্রকৃত আকারের চেয়ে বড় দেখা যায়। বিপরীতে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ভারতের মতো বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চলগুলোর প্রকৃত বিস্তৃতি পুরোপুরি ফুটে ওঠে না।
ভূগোলবিদদের মতে, এটি শুধু মানচিত্রের কারিগরি সীমাবদ্ধতা নয়; দীর্ঘদিন একই ধরনের মানচিত্র ব্যবহারের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে মানুষের ধারণার ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার প্রকৃত বিশালতা অনেকটাই আড়ালে থেকে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মার্কেটর প্রজেকশনের বিকল্প হিসেবে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। নতুন এই প্রজেকশনে দেশ ও মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন বাস্তবের কাছাকাছি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটাভুটিতে বিশ্বের ১৬৪টি দেশ নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন জানায়। যদিও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এটি সব দেশের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়নি, তবু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি কাজে বিকল্প মানচিত্র ব্যবহারের আলোচনা শুরু হয়েছে।
আফ্রিকার দেশগুলো আশা করছে, ভবিষ্যতে ডিজিটাল মানচিত্র, পাঠ্যবই ও শিক্ষাসামগ্রীতে প্রকৃত আয়তনভিত্তিক মানচিত্রের ব্যবহার বাড়লে বিশ্বের সামনে মহাদেশ ও দেশগুলোর বাস্তব ভৌগোলিক চিত্র আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসবে।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
