×

অর্থনীতি

বিদ্যুতে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ, দেউলিয়া পরিস্থিতি বলছেন মন্ত্রী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ এএম

বিদ্যুতে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ, দেউলিয়া পরিস্থিতি বলছেন মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অংকের দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। বিদ্যুৎ খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রমজানের পর সেচ ও গ্রীস্ম মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে সমাধান করতে বেগ পেতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। বিদ্যুৎ বিভাগ ধারণা করছে, এ বছর সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে। নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে দেশি ও বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হিসাব মতে ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো গত সাত-আট মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায়নি।

বকেয়ার কারণ জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করীম বলেন, শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এটা বেড়েছে। সরকারের থেকে যে সাবসিডি পাওয়া যেত, তা কমে গেছে। এতে এই অবস্থায় এসেছে। এর মধ্যে কিছু মাইনাস আরো হবে। আমরা সরকার থেকে আরো কিছু টাকা পাবো।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পিডিবির বকেয়া এক পর্যায়ে তিন মাসে নেমে এসেছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আর কোনো বিল পরিশোধ হয়নি বলে জানায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা। তারা আশঙ্কা করছেন, এই বকেয়া নতুন সরকারকে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

আরো পড়ুন : বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, বকেয়ার বিষয়টি মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের ওপর নির্ভর করে। এখানে ইচ্ছাকৃত কোনো সমস্যা নেই। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হয়। যেসব টাকা আসে, তা দিয়ে বাকি বিল পরিশোধ করা হয়।

বাংলাদেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট উৎপাদন সক্ষমতার ২৩ শতাংশের মত। ফার্নেস অয়েলে চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ৫৬৩৭ মেগাওয়াট বা ২০ শতাংশের মত। এর মধ্যে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সক্ষমতাই প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাথমিক জ্বালানি সংস্থান করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মোট উৎপাদনের ৮৮ শতাংশে গ্যাস, কয়লা ও তেলের ব্যবহার হয়, যার বড় অংশ আমদানি করতে হয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আগামী এক মাসে মূল চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তেল ভিত্তিক কেন্দ্র চালাতে হবে, এলএনজি ও কয়লা আমদানি করতে হবে। কিন্তু এটার জন্য ডলার পাওয়া যাবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন। আমাদের সব এনার্জি আমদানি করলে ১৩–১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। ক্যাপাসিটি পেমেন্টসহ সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এত টাকা এখন নেই।

বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি কোম্পানি জানিয়েছে, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না হলে গরমে চাহিদা পূরণ করা কঠিন হবে। এলসি খোলার প্রক্রিয়ায় ৪০-৪৫ দিন সময় লাগে। এই বিল বকেয়া কমানো না হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তেল আমদানি করতে পারবে না।

পিডিবি বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে সময়মতো বিদ্যুৎ দিতে না পারায় চুক্তি অনুযায়ী এলডি (লিকুইডিটি ড্যামেজ) ধার্য করেছে। তবে কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের সঙ্গে কিছু ইস্যু আছে, সেগুলোর সমাধানের পরই চূড়ান্ত মন্তব্য দেওয়া যাবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা শুধু আর্থিক নয়, জ্বালানি সংকটও বড় বাধা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশি তেল ও কয়লা আমদানি ছাড়া চাহিদা পূরণ কঠিন।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম মনে করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। যারা যথাযথভাবে বিদ্যুৎ দিচ্ছে, তারা সঠিক সময়ে বিল পাবেন। অসৎ যারা, তারা বকেয়া সমস্যার জন্য দায়ী।

তিনি বলেন, কয়লা-ভিত্তিক কেন্দ্র চালালে ২৮-৩০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তবে তেল কিছুটা প্রয়োজন, কারণ পিক টাইমে লোডশেডিং ও শিল্পে গ্যাস দিতে হলে তেলের ব্যবহার দরকার।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে রোজার সময় এবং সেচের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এলপিজি, এলএনজি, কয়লা আনা হচ্ছে, বকেয়া সমাধানের চেষ্টা চলছে। অতীতের অনিয়ম সামলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ খাতের জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন সরকার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, লোডশেডিং সমন্বয়, তেলভিত্তিক কেন্দ্র কমানো এবং বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা।

সূত্র : বিবিসি

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সরাসরি নকআউট খেলবে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস সরাসরি নকআউট খেলবে বাংলাদেশ

আরও বড় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানে হামলা গড়ালো ১৩ দিনে আরও বড় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

‘জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়’

‘জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়’

শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App