দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে কিংবা যেকোনো সামাজিক উৎসবে নারীদের সাজসজ্জায় স্বর্ণালংকারের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। বিশেষ করে বিয়েতে কনের প্রধান অলংকার হিসেবে স্বর্ণ দেওয়ার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।
টানা তিন দফা দাম কমার পর এবার দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কিছুটা বাড়ার প্রভাবেই দেশের বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি, নেপথ্যে কী?
সংশোধিত দরে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ও ৬ সেপ্টেম্বরও দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। ফলে কয়েক দফা কমার পর এবার আবারও দাম বাড়ল মূল্যবান এই ধাতুটির।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা ও ধরন অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে মজুরি নেওয়া হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় আলাদাভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের সুযোগ নেই।
পুরোনো স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে। আর পুরোনো অলংকার বিক্রি বা পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজ—দুই ক্ষেত্রেই পৃথকভাবে ভ্যাট কর্তনের সুযোগ থাকবে না।
বাজুসের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সংগঠনটির নির্ধারিত এই মূল্যেই স্বর্ণ বিক্রি করতে হবে।
