‘তদন্ত করলে ছাত্র উপদেষ্টাদের নামে শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রত্যেকের নামে অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মিসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ উপকমিটি এ সভার আয়োজন করে।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই যে ছয় মাস দায়িত্বে আছি—যে যত কথাই বলুক, স্পেসিফিকভাবে কেউ কোনো দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবে না। যেদিন প্রমাণ করবে, আমরা বলেছি—সেদিন আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা যে পরিবর্তনের লড়াই বাংলাদেশে শুরু করেছি, তার শেষ দেখে যেতে চাই। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আরও কিছুদিন লড়াই-সংগ্রাম করতে চাই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটি গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগের ‘মাফিয়া লুটেরাদের’ পুনর্বাসনের মতোই তাদের ক্ষমতায়ন করেছে।
আরও পড়ুন: লংমার্চের মধ্য দিয়ে ‘বড় আন্দোলনের’ পথে জামায়াত-এনসিপি?
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা নয়—এই তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টারা যারা ছিলেন, তাদের যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, প্রত্যেকের অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে; আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি।’
‘কাজেই এই বিপ্লবের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই’—বলেন তিনি।
এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতা অতীতে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন নুর। তার মতে, জামায়াতের প্রভাব থেকে বেরিয়ে বিকল্প রাজনীতির ধারা তৈরি করতে না পারলে এনসিপির টিকে থাকা কঠিন হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি সংস্থাগুলোতে প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু আদর্শিক তরুণ প্রলোভনের শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে গণঅধিকার পরিষদ তাদের ধরে রাখতে পারেনি বলে দাবি করেন নুর।
‘অনেক দপ্তরে এখনো পরিবর্তন আসেনি’
বিরোধী দল জামায়াতের সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দলটি দ্বিচারিতা করছে। তার অভিযোগ, রাজপথে এক ধরনের অবস্থান এবং সংসদে আরেক ধরনের অবস্থান নিচ্ছে তারা।
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং জনকল্যাণমুখী হতে হবে। জনগণের ভ্যাট-ট্যাক্সের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় উল্লেখ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নুর বলেন, ‘আমার মনে হয়, অনেক দপ্তরে আসলে এখনো আমরা ওই পরিবর্তনটা ঘটাতে পারিনি।’
বিভিন্ন সরকারি কাজে এখনো সুপারিশ করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দপ্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের আরও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘সুবিধাবাদের চিন্তা করলে রাজনীতিও হারিয়ে যাবে’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নুরুল হক নুর বলেন, রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার পেছনে না ছুটে আদর্শিক লড়াই ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ-সুবিধা, খুদ-কুড়ার চিন্তা-ভাবনা না করে রাজনীতিতে যেহেতু ফ্যাসিস্টদের সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে আমি মনে করি—আপনাদের যে সংগ্রাম, আদর্শিক লড়াই, সেই লড়াইকেই আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। সুবিধাবাদের চিন্তা-ভাবনা করলে আমরাও রাজনীতিতে টিকব না, আমাদের রাজনীতিও হারিয়ে যাবে।’
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
কর্মীসভায় আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, দলের নেতা আরিফুর রহমান, মো. ইউনুস, আরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিলসহ অন্যরা।
