×

জাতীয়

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি, নেপথ্যে কী?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ এএম

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি, নেপথ্যে কী?

ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের কার্যক্রম শেষ ধাপে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপনের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং শেষ হওয়ার পর এসআরও নম্বর জারি করে গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে জুডিশিয়ারি সার্ভিসের বেতন-ভাতা নির্ধারণসহ কয়েকটি বিষয়ে জটিলতা থাকায় পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করে। তখন এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর পে স্কেলের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।

আরো পড়ুন: আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন কত হবে, কোন ভাতা কখন থেকে কার্যকর হবে এবং বকেয়া অর্থ কীভাবে হিসাব করা হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে গেজেটের অপেক্ষায় আছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুডিশিয়ারি সার্ভিসের কর্মীরা শতভাগ ভাতার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে অর্থ বিভাগ সেই দাবিতে সম্মতি দেয়নি। বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান না করেই নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ও ঘোষণা হওয়ায় এখন জটিলতাটি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গেজেট প্রকাশে সরকারের কোনো ইচ্ছাকৃত বিলম্ব নেই। প্রজ্ঞাপন জারির আগে যে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা দরকার, সেটিই করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গেজেট প্রকাশের আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বা খসড়ার ভিত্তিতে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা থেকে শুরু করে অবসর সুবিধা—সব ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবে প্রজ্ঞাপন।

অর্থ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষাভাতা, বাড়িভাড়াসহ কয়েকটি ভাতা প্রত্যাশা অনুযায়ী না থাকায় এগুলো বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এসব বিষয় সমন্বয় করে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি চলতি সপ্তাহেই আদেশ জারির কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতার কারণে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সময় লাগছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি হারে মূল বেতন বাড়ছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।

আরো পড়ুন: রাজধানীর আকাশে মেঘ, রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ।

তবে নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই তিন ধাপে নতুন বেতন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে।

উদাহরণ হিসেবে ২০তম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা হবে ২০ হাজার টাকা। বাড়তি ১১ হাজার ৭৫০ টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা প্রথম ধাপে যুক্ত হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা যোগ হয়ে তা হবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপেও একই পরিমাণ যোগ হয়ে চূড়ান্ত মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।

প্রথম গ্রেডে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। বাড়তি ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ হাজার ২০০ টাকা প্রথম ধাপে যুক্ত হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হলে চূড়ান্ত মূল বেতন দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নবম গ্রেডের মূল বেতনও ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এই বেতন যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং শেষ ধাপে ৪৪ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মূল বেতন তিন ধাপে বাড়লেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন হারে একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার পরও নতুন হারে ভাতার সুবিধা পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। নতুন ভাতাগুলো যুক্ত হলে মোট মাসিক আয় মূল বেতনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

আরো পড়ুন: ৮ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস

হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়া ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ২০ হাজার টাকা হলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা হতে পারে। তবে কর্মস্থল ও প্রাপ্য ভাতার ধরন অনুযায়ী এ অঙ্কে পার্থক্য হতে পারে।

১৩তম গ্রেডের নতুন একজন সহকারী শিক্ষকের মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা হলে সব প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হওয়ার পর মোট মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। একইভাবে ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা মূল বেতন হলে ভাতাসহ মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নবম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যোগ হলে শুধু মূল বেতন ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে মাসিক আয় দাঁড়াবে ৬৬ হাজার টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হলে মোট আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বর্তমানে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাবটি সরাসরি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মতো হবে না। তাদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বেতন, ভাতা ও পেনশনসহ নতুন কাঠামো কার্যকর করতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ এই কাঠামোর আওতায় আসবেন।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, পুরো বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়ন করলে সরকারের রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ তৈরি হতো। এ কারণে রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক বাজেট সক্ষমতা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, কয়েক ধাপে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বর্তমান আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের চাপ না পড়ে ধীরে ধীরে ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে তার মতে, বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়াতে হবে। শুধু পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকলে উন্নয়ন ব্যয়ে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নতুন পে স্কেলের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর দিকেও সরকারের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ফ্রান্সে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৪৪

ফ্রান্সে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৪৪

দেশের বাজারে  বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?

দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি, নেপথ্যে কী?

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি, নেপথ্যে কী?

আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App