রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিলামের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের ডলারের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার অনুষ্ঠিত নিলামে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে একক বিডে সর্বনিম্ন ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে মঙ্গলবার ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম আহ্বান করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নিলামে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। তবে কী কারণে নিলাম বাতিল করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এর বিপরীতে সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারেও ডলারের দর বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত প্রায় তিন বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলেছিল। এতে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই নীতি বজায় রাখেন। এ সময় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। পরে ১ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। তবে এরপর থেকে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার রিজার্ভ নেমে আসে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে।
এ পরিস্থিতিতে আবারও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং বুধবার আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন করে চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়তে হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের ওপরও নজর দিতে হবে।
