×

যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পাল্টে গেল রাজনীতির সমীকরণ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পাল্টে গেল রাজনীতির সমীকরণ

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে দলটি। অন্যদিকে সিনেটে সাতটি এবং প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ২৫টি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনেও বড় সাফল্য পেয়েছে দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এ ফল ট্রাম্পের শাসনামলের প্রথম দুই বছরের প্রতি ভোটারদের অনাস্থার প্রতিফলন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বুধবার পাওয়া ফল অনুযায়ী, ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও তাদের সঙ্গে থাকা দুই স্বতন্ত্র সদস্যের মোট আসন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসন কমে হয়েছে ৪৪। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্রদের মিলিয়ে ছিল ৪৭টি। অর্থাৎ অন্তত সাতটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

তবে সিনেটের দুটি আসনের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। মিসিসিপিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলম রিপাবলিকান সিন্ডি হাইড-স্মিথের চেয়ে মাত্র ৪৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভান ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলার চেয়ে ৫৩৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ফলে এ দুই আসনের ফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সিনেটের পূর্ণাঙ্গ দলীয় চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সর্বশেষ হিসাবে ৩৬৭টি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ২২৮টি এবং রিপাবলিকানরা ১৩৯টি আসন। বাকি ৬৮টি আসনের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। এসব আসনে ভোট গণনা চলছিল।

ফল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা আসনগুলোর মধ্যে কলোরাডোর চতুর্থ আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইলিন লবাখার রিপাবলিকান লরেন বোবার্টের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। ফ্লোরিডার ২৬তম আসনে নিকোল লকলিন, ভার্জিনিয়ার প্রথম আসনে শ্যানন টেলর এবং নর্থ ক্যারোলাইনার নবম ও চতুর্দশ আসনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে টেনেসির নবম আসনে এগিয়ে ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রেন্ট টেলর। ফলে এসব আসনের চূড়ান্ত ফল দুই দলের ব্যবধান আরও বাড়াতে বা কমাতে পারে।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্য এসেছে টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায়। এসব অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের আসন হারাতে হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাসে জেমস তালারিকোর জয় ১৯৮৮ সালের পর অঙ্গরাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা। মেইনে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকেও হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন।

গভর্নর নির্বাচনেও বড় সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪টির ফল নিশ্চিত হয়েছে। দেশজুড়ে গভর্নরদের দলীয় অবস্থানে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা বেড়ে ২৮ এবং রিপাবলিকানদের কমে ২০ হয়েছে। নির্বাচনে জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস, ওহাইওতে অ্যামি অ্যাকটন, আইওয়ায় রব স্যান্ড এবং টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গভর্নরের পদ ছিনিয়ে নিয়েছেন। বাকি দুটি অঙ্গরাজ্যের ফল এখনো অপেক্ষমাণ।

এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক অর্জনও যুক্ত হয়েছে। জর্জিয়ায় জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হয়েছেন কিশা ল্যান্স বটমস। নিউ মেক্সিকোয় জয়ী হয়ে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেব হালান্ড। টেক্সাসে প্রথম লাতিনা গভর্নর হওয়ার পথে রয়েছেন জিনা হিনোজোসা। এ ছাড়া মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদ প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস স্পিকার নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এ পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি।

নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হলেও এর অর্থ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হারানো নয়। তবে মেয়াদের বাকি দুই বছর তাঁকে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্ত, শুনানি আয়োজন এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ অনুমোদন বা আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের হাতে যাচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনের পর ট্রাম্প বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ভালো প্রচারণা চালিয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস এ ফলকে দলের বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আগামী কংগ্রেসে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

এবারের নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায়। ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটন এবং ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে এমন ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৮ সালেও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। তবে ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে ৯/১১ হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যতিক্রমী সাফল্য পেয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউরোপের কয়েকজন নেতা ফলাফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন, জলবায়ুনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথাও বলেছেন ইউরোপীয় নেতারা। অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, মার্কিন নির্বাচনের ফল তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। হোয়াইট হাউজ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে। ফলে মেয়াদের বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে ওয়াশিংটনে দুই দলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পাল্টে গেল রাজনীতির সমীকরণ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পাল্টে গেল রাজনীতির সমীকরণ

শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App