প্রাথমিক শিক্ষা
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। কোনো কোনো স্কুলের ভবন এক যুগ ধরে বেহাল। কোনো স্কুলে ঢালাই, পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোনটিতে দেয়াল ও ছাদ জুড়ে বড় বড় ফাটল। সেই ফাটল দিয়ে রড বের হয়ে গেছে। কোন স্কুলে ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে দেয়ালে বাঁশ বা শক্ত কিছু দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক। দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে জানালাগুলো।
অনেক সময় এসব স্কুলে ফ্যান বা পলেস্তারা খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে আর তাতে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে এসব স্কুলে ক্লাস করতে করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ঘোষণার পরও কোন কোন স্কুলে ক্লাস হচ্ছে। কোথাও খোলা আকাশের নিচে, পাশের ঝুপড়ি ঘরে কিংবা মন্দিরের রুমেও ক্লাস নেয়ার মত ঘটনা ঘটছে। স্কুলের এমন দৈন্য দশা দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে কমতে শুরু করেছে শিক্ষার্থী।
বিভিন্ন সময় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ সরকার নিলেও এখনো অনেক স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। গত বুধবার ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন এবং দীর্ঘ ২৫ বছরেও যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি সেসব স্কুলের তালিকা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলে ক্লাস
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কংগাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখা গেলেও ভবনের ভেতরে ফাটল আর ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। খসে পড়া আস্তরণের ভেতর বের হয়ে আছে মরিচাধরা রড। ১৯৯০ সালে নির্মিত এ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর নতুন করে দেখা দিয়েছে একাধিক ফাটল। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসাও বন্ধ করে দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়ার মোড় এলাকার ২৬ নম্বর লক্ষ্মীনারায়ণ বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৭ নম্বর লক্ষ্মী নারায়ণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই শিফটে এখানে ক্লাস চলে। ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দোতলা। পুরাতন এই বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমের ছাদ ও দেয়াল জুড়ে ফাটল। ছাদের বিমের ঢালাই ও পলেস্তারাও অনেক জায়গা থেকে খসে খসে পড়ে।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার শ্রেণীকক্ষের ছাদটি যেন ধসে না পড়ে, এ কারণে চারটি বাঁশ লাগিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছিল। এসব কারণে ভবনের দোতলার ৩টি রুমই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। নিচ তলার ৩টি রুম কোন রকমে কাজে লাগিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কাজ। এর মধ্যে দুটি রুমে ক্লাস হয়। আর এক রুমে শিক্ষকরা বসেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৫ সালে ভূমিকম্পের পর স্কুলের তৃতীয় তলার চিলেকোঠা এবং দ্বিতীয় তলার দু’টি রুম বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর নিচের কয়েকটি রুমে গাদাগাদি করে বাচ্চাদের ক্লাস নেয়া হয়। এরপর ৩ বছর আগে মন্দির থেকে দুটি রুম দেয়া হয়; সেখানে পঞ্চম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়। বৃষ্টির সময়ে স্কুলের নিচতলার রুমে পানি চলে আসে। তখন ক্লাস নেয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়। স্কুলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬’শ। যত সময় যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অধিদপ্তর, শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত ১৮৪ নং করিমগঞ্জ-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। স্কুল ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল; ছাদে পলেস্তারা খসে পড়ে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানিও পড়ে। নরসিংদীতে ঘনঘন ভূমিকম্প হয়। কখন কী ঘটে যায় সেই আশঙ্কায় দিন কাটছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও আশ্বাস মিললেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ঘোষিত একটি জরাজীর্ণ ভবনের বারান্দায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুল ভবনটি ২০০২ সালে পাকা ভবন করা হয়। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা, সুরকি খসে পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে। যে কোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আতঙ্ক থাকলেও নতুন ভবন না হওয়ায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, এক বছর আগে বড় বড় ফাটল তৈরি হলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেন। এরপর গত বছরের অক্টোবরে মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও রংপুর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বিদ্যালয় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বুড়ন গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পিলারে ফাটল দেখা দেয়ায় ক্লাসরুমে বসতে চায় না শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ছাপরা ঘরে চলছে ক্লাস।
জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির প্রতিটি পিলারে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। গত দেড় মাসে অন্তত ৩ বার পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ অবস্থায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
বিভিন্ন সময় ঘটছে অঘটন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। চলতি বছরের ৬ মে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ক্লাস চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দ্রুত সরজমিনে পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্কুল ভবনটিতে ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দেন।
চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ইউনিয়নের সায়েস্তানগর গ্রামের জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে ৬ষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে ছাদের পলেস্তার ধসে পড়ে আহত হয় ৭ শিক্ষার্থী। পুরোনো ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। মানসম্মত কাজ না হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের। ঘটনার পরপরই শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে নতুন ভবনের জন্য গত বছরের ১১ ডিসেম্বর শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরে প্রধান শিক্ষক আবেদন করলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
১৯ এপ্রিল নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে বিদ্যালয় ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। জানা যায়, উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নূরপুর বোয়ালী গ্রামের জিয়াখড়া বাজারসংলগ্ন প্রকাশনাথ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর দুইবার সংস্কার করা হলেও ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার পর ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ২০ শতাংশ জরাজীর্ণ; মেরামত প্রয়োজন ১৬ শতাংশের
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১ লাখ ৭ হাজার প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে পড়ান ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতাংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জীবন রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, আরো ১৬ শতাংশ স্কুল ভবনেরও মেরামত প্রয়োজন।
২০২৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের জুলাই পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৬৫৬টি স্কুল ভবন নতুন, ভালো ও ব্যবহারযোগ্য, ১৮ হাজার ২৭১টি পুরাতন, ১৬ হাজার ৯৯৮টি মেরামতযোগ্য, ১১ হাজার ৬১৩টি জীর্ণ, ৫ হাজার ২৫২টি ঝুঁকিপূর্ণ, ৩ হাজার ৩০৭টি পরিত্যক্ত এবং ১ হাজার ৩৪৮টি ব্যবহার অযোগ্য। এ ছাড়া বাকি স্কুলের ভবন নির্মাণাধীন ছিল।
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ভবন না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করতে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে ভবন পেতে বছরের পর বছর সময় পার হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়েই জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস চলছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছর। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অনেকগুলোও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে আরো কয়েক শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবং সর্বশেষ দফায় দফায় কয়েকবার ভূমিকম্পের কারণে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন শ্রেণিকক্ষে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পাঠতে আতঙ্কিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য চেয়েছে সরকার
ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন এবং দীর্ঘ ২৫ বছরেও যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি সেসব স্কুলের তালিকা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। দেশের সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গত বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ ডিপিই বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে নানা অবকাঠামোগত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো পাঠদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যেসব স্কুল ভবন অতি পুরোনো, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, ভবনের কলাম, বীম বা ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে পড়েছে, এসব ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া কমিটি কর্তৃক অকেজো ঘোষিত ভবনও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এতে আরো বলা হয়, যেসব স্কুলে আলাদা টিনশেড ঘর বা অস্থায়ী টিনশেড কক্ষ রয়েছে, সেগুলোও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে এবং দীর্ঘ ২৫ বছরেও যেসব স্কুল ভবন নির্মাণ হয়নি, সেসব স্কুলের জেলা ভিত্তিক তথ্য জরুরিভিত্তিতে পাঠাতে হবে। আগামী ২৪ মের তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সফট কপি ই-মেইলে এবং হার্ড কপি ডাকযোগে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি বিভাগীয় উপপরিচালক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
