পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের মিশনে ফের দুশ্চিন্তা সেই বৃষ্টি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঘুরে ফিরে দুই বছর আগের কথাই আসছে। বাংলাদেশ কি ২০২৪ সালের মতো আবারো পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে?
বলে রাখা ভালো, ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২-০ তে হারিয়ে ধবলধোলাই করেছিল টাইগাররা। প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে জেতার পর দ্বিতীয় টেস্টে টিম বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬ উইকেটের জয়।
এবারও প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতে আবারো পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশের’ সম্ভাবনা জাগিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাথে ব্যাটার মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসরা ব্যাকআপ করেছেন। আর বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা জ্বলে উঠলে দারুণ এক টিম পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ঢাকা টেস্টে ধরাশায়ী করেছে বাংলাদেশ।
বাড়তি কিছু করার নেই। সিলেটে ঠিক ওইরকম টিম পারফরম্যান্স হলেই হয়তো আবার জয়ের দেখা পাবে টাইগাররা।
শেরে বাংলায় টাইগাররা দেখিয়ে দিয়েছেন, জায়গামতো জ্বলে ওঠার সামর্থ্য তাদের আছে। হোক তা ব্যাটিং কিংবা বোলিং, যখন যেটা দরকার— ২ বছর আগের মতো এবারও ব্যাটার আর বোলাররা তা করে দেখিয়েছেন। সময়ের দাবি মিটিয়েছেন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রায় উভয় ইনিংসেই শতরান করে ফেলেছিলেন প্রায়। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের পর দ্বিতীয়বার মাত্র ১৩ রান দূরে আউট হলেও দলকে সামনে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন শান্ত।
একইভাবে অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও দুই ইনিংসেই ফিফটির ঘরে পা রেখে দলকে সাধ্যমতো এগিয়ে দিয়েছেন। মুশফিক-লিটন দাসও কার্যকর পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
আবার অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ এবং ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা উভয় ইনিংসে ৫ উইকেট দখল করে পাকিস্তানকে কুপোকাত করেছেন।
যাদের কথা বলা হলো, তারাই যে শুধু অবদান রেখেছেন তা নয়। বল হাতে পুরো বোলিং ডিপার্টমেন্ট একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করেছে। ইনজুরি কাটিয়ে আবার মাঠে ফেরা এবাদত হোসেন ছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামও ভাইটাল ব্রেকথ্রু উপহার দিয়েছেন। খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানের জুটি ভাঙার কাজ করেছেন। না হয় সমীহ জাগানো বোলিং করে পাকিস্তানের জমে ওঠা জুটি ভেঙে দিয়ে পিছনের পায়ে ঠেলে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে একটা সাজানো-গোছানো টিম পারফরম্যান্সের নিপুণ প্রদর্শনী ঘটিয়ে ঢাকায় জিতেছে টিম বাংলাদেশ।
এদিকে সিলেটে সিরিজ নিশ্চিতের পাশাপাশি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার মিশনে বাংলাদেশের সামনে বড় বাধা হলো আবহাওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ৫ দিনের প্রতিদিনই বৃষ্টির কথা বলা আছে।
ঢাকায় বৃষ্টি বাগড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত খেলা নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সিলেটে কি আদৌ টেস্ট শেষ করা যাবে? মাঠে খেলা গড়ালেও টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ কি হবে? নাকি বৃষ্টিতে নিষ্ফলা থেকে যাবে সিলেট টেস্ট? সে প্রশ্নই কিন্তু এখন ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে।
