উপাচার্য
পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ডেইলি স্টার ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য জানান, নতুন পাঠ্যক্রমের লক্ষ্য হলো- প্রতিটি শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করার আগেই অন্তত একটি ব্যবহারিক বা প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করবে, যাতে তারা সহজেই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ কার্যক্রম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। তাই শিক্ষার্থীদের কেবল সনদনির্ভর না রেখে আধুনিক কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
আইসিটি বিষয়ের শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সেশনজট ও উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, বিদ্যমান পাঠ্যক্রম সময়ের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। অথচ বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতায় এগিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সময়োপযোগী ও আধুনিক বিষয় সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করে তুলতে ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলকে মূলধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
উপাচার্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার এবং অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো লার্নিং ও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্সও চালু করা হয়েছে। তাঁর মতে, সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের তরুণরা বৈশ্বিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও শ্রম কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
