প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নিয়োগের অংশ হিসেবেই এ ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়।
এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের উপজেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ৪১ জেলায় প্রায় দেড় হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাদ পড়া এসব প্রার্থীর নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। তাদের বাদ দেওয়ার কারণও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে কয়েকজন প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদন আসার কারণে তাদের নিয়োগ আটকে গেছে।
এ ঘটনায় বাদ পড়া প্রার্থীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনও বিবৃতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতির ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
