বই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে ৮২ নৌকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে বিতর্কের মুখে দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠা ৮২টি নৌকার ছবি এবার আর পরিবর্তন করা হচ্ছে না। বইগুলোর ছাপার কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবইয়ের ছবি নিয়ে বিতর্কের পর মুদ্রণ কার্যক্রম সংশোধন ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে গত শনিবার দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মুদ্রিত প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন শ্রেণির বাংলা বইয়ে রয়েছে ৮২টি নৌকার ছবি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব ছবির অনেকগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঠের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হয়’ বাক্যের সঙ্গে নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ‘ভোর হলো’ কবিতা এবং ‘আমাদের দেশ’ সম্পর্কিত আলোচনাতেও নৌকার ছবি রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘আমাদের গ্রাম’ ও ‘আজিকার শিশু’ কবিতার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তালগাছ’ কবিতার মতো পাঠেও নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে। তবে এনসিটিবির দাবি, নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বইটির সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৮ লাখ কপির মধ্যে ১৮ লাখ ইতিমধ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ২০ লাখ কপি ছাপার কাজ চলছে। সরবরাহ করা বই ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পীরা ছবিগুলো এঁকেছেন। বিষয়বস্তু পরিবর্তন না হলে ছবি পরিবর্তন করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। সে সময় এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
