বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি, আবেদন শুরু যেদিন থেকে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ফাইল ছবি
এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত এবং পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার প্রভাবের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২১ নভেম্বর।
শনিবার (৭ নভেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছেন বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কামরুল হাসান।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ১৬ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সেই প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছি।’
এদিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব পরীক্ষা আয়োজন করে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি সভার আয়োজন করে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সভার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়েই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করবে।
ফলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর কেউ পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়ও। সব মিলিয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭০২ জন।
বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৪ থাকতে হবে। পাশাপাশি এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত—প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে গ্রেড পয়েন্ট ‘এ প্লাস’ থাকতে হবে।
এ অবস্থায় এবার বুয়েটে ভর্তির আবেদনকারীর সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গত বছরের মতো এবারও আবেদনের যোগ্যতার শর্ত অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে অনড় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা নেব মাত্র ১০ হাজার শিক্ষার্থীর। সেখানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ। ১০ হাজারের বেশি আবেদন পড়লে সেখান থেকে অনেকে বাদ পড়বে। তাই আমাদের ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা শিথিল করার কোনো প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জায়গাও সীমিত। আমরা ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে পারি না।’
ভর্তি আবেদনের শেষ সময় কবে, তা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক কামরুল হাসান।
