বস্তি থেকে শহরে দুই বাড়ির মালিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা বর্তমানে দর্শকদের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি নাম। তবে তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম আর কঠোর পরিশ্রমের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব, ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
মহিমা জানান, অভিনয় তার নিজের স্বপ্ন ছিল না। ছোটবেলায় স্কুল শেষে বাসে করে অডিশন দিতে যেতেন। সারাদিনের ক্লান্তি সত্ত্বেও তার মা সবসময় তাকে উৎসাহ দিতেন।
তিনি বলেন, তার মা নিজে অভিনেত্রী হতে চাইলেও আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। অভাবের দিনগুলোতে মা শুধু একটি নিজের বাড়ির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নই মহিমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা হয়ে ওঠে।
মাত্র ৯ বছর বয়সে একটি শুটিং সেটে একজন পরিচালকের কাছ থেকে অভিনয় নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য শুনতে হয়েছিল তাকে। সেই অভিজ্ঞতাকে হতাশা নয়, বরং অনুপ্রেরণায় পরিণত করেন তিনি।
এরপর ২০১২ সালে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে, জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ধারাবাহিকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ১৪ বছর বয়সেই তিনি মায়ের জন্য প্রথম বাড়ি ও একটি গাড়ি কিনে দেন।
টেলিভিশনে সফল হলেও চলচ্চিত্রে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। বহুবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পাশাপাশি ‘টিভির অভিনেত্রী’ পরিচয়ের কারণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে। অবশেষে ২০২১ সালে সালমান খানের ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
মহিমার ভাষায়, ‘অন্তিম’ মুক্তির পর মানুষের আচরণ বদলে যায়। অনেকেই তখন বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর পেছনে ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের কঠোর পরিশ্রম।
প্রথম বাড়ি কেনার ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে আরও বড় একটি দ্বিতীয় বাড়ি কেনেন তিনি। পাশাপাশি তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ ‘শোটাইম’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলার সাফল্য উদ্যাপন করছেন এই অভিনেত্রী।
তবে সাফল্যের মাঝেও বাবাকে হারানোর শূন্যতা আজও তাকে কষ্ট দেয়। আবেগঘন কণ্ঠে মহিমা বলেন, বাবা পাশে থাকলে কেমন লাগে, তা তিনি কখনো অনুভব করতে পারেননি। বন্ধুদের বাবার সঙ্গে দেখে তার নিজের শূন্যতার কথা মনে পড়ে। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন- এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
