×

আমদানি-রপ্তানি

চট্টগ্রাম বন্দর: ধর্মঘটে অচল হলেও চেয়ারম্যানের দাবি সচল

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দর: ধর্মঘটে অচল হলেও চেয়ারম্যানের দাবি সচল

ছবি: সংগৃহীত

টানা ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর। শ্রমিক-কর্মচারীদের এ ধর্মঘটের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে এসে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান দাবি করলেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল আছে। বন্দরকে হাইজ্যাক করে জনগণকে জিম্মি করতে চায় কিছু বিপথগামী কর্মচারী।

রোববার (৮ফেব্রুয়ারি)  বেলা সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন। কিন্তু পৌনে ১টায় বন্দর ভবনের বিপরীতে ৪ নম্বর জেটি গেইটে এবং বেলা ১টা ২০ মিনিটে বন্দরের এনসিটি গেইটে গিয়ে কোনো যানবাহন দেখা যায়নি।

এদিন বেলা ১১টায় বন্দর ভবনের সামনের মাঠে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন চেয়ারম্যান। তবে বন্দর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে সেই সংবাদ সম্মেলন শুরু হতে দেরি হয়ে যায়। রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরকে হাইজ্যাক করে জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে।

“আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা; আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, “যারা এসব করছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রমজানের আগে এ ধরনের একটা কাজ করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবে। কেউ বাধা দিবে না।”

বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা শেষ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নেগোসিয়েশন এখনো শেষ হয়নি।”

এনসিটি পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চারদফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

এদিন সকাল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দরের ভেতরে কাজ করা থেকে বিরত থাকে। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায় এবং পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে পড়ে।

সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতয়েন রয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন  বলেন, “সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি।”

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চট্টগ্রামে পুলিশের এস ড্রাইভ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭

চট্টগ্রামে পুলিশের এস ড্রাইভ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭

ঈদে ১০ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ঈদে ১০ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু

অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু

সাবেক এমপি ফজলুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত

সাবেক এমপি ফজলুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App