সকালে কফি লিভারের জন্য ভালো, নাকি খারাপ?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কফি অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কেউ কর্মব্যস্ত দিনের শুরুতে সতেজ থাকতে কফি পান করেন, আবার কেউ কফির স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য এটি পছন্দ করেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে সকালের কফি খেলে লিভারের জন্য ভালো নাকি খারাপ? বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভার বা লিভারের অন্য সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে লিভারের জন্য বেশ কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত কফি পান কিংবা ভুল সময়ে কফি খাওয়ার কারণে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
কফি কি ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো?
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি পান নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপকারী হতে পারে।
আরো পড়ুন: ডিমের সঙ্গে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
কফিতে থাকা ক্যাফেইন, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত কফি পান করলে, লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি কমতে পারে। লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি কমতে পারে। লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও কমতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, কফি কোনো ওষুধ নয়। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সকালে কফি খেলে কী হয়?
সকালে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়: ঘুমভাব দূর হয়, মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, বিপাকক্রিয়া কিছুটা বাড়ে, লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে ও মেজাজ ভালো হতে পারে।
সকালে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি খেলে কী হয়?
অনেকেই ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে সকালে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করেন। তবে এটি সবার জন্য সমান উপকারী নয়।
সম্ভাব্য উপকারিতা: সাময়িকভাবে ক্ষুধা কম অনুভূত হতে পারে। শরীরে শক্তি ও সতেজতা বাড়তে পারে। ব্যায়ামের আগে পান করলে কর্মক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে।
সম্ভাব্য সমস্যা: পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হতে পারে। গ্যাস্ট্রিক বা অম্বল বাড়তে পারে। বমি বমি ভাব হতে পারে। যাদের আলসার বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি বাড়তে পারে। কিছু মানুষের উদ্বেগ বা হাত কাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরো পড়ুন: পেট ভরে খাওয়ার পরও কেন ক্ষুধা লাগে?
তাই যাদের গ্যাস্ট্রিক বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা খালি পেটে কফি না খেয়ে হালকা নাশতার পরে পান করলে ভালো।
কফি খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
পরিমিত কফি সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত কফি পান করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন : ঘুমের সমস্যা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, উদ্বেগ বৃদ্ধি, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে ও অতিরিক্ত চিনি ক্ষতিকর।
দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২ থেকে ৪ কাপ (প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের মধ্যে) কফি সাধারণত নিরাপদ।
তবে এই পরিমাণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। গর্ভবতী নারী, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কফি পান করা উচিত।
লিভারের সুস্থতার জন্য শুধু কফির ওপর নির্ভর করলে হবে না। এর পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান। ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
তবে অতিরিক্ত কফি পান, খালি পেটে কফি খাওয়া বা অতিরিক্ত চিনি ও ক্রিমযুক্ত কফি নিয়মিত পান করলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই কফিকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করুন, তবে এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়। লিভার বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করুন।
সূত্র: হেলথলাইন
