ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৫০ বাংলাদেশি
শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) রাত ৯টার সময় ভারত-বাংলাদেশ “দুই দেশের মোহনা” বেনাপোল-পেট্রাপোল শুন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারত-বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, সংশ্লিষ্ঠ মানবাধিকার সংস্থা ও দপ্তরের কর্মকর্তা।
ভারতের প্রশাসনিক ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক এসব বাংলাদেশি নাগরিককে সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল। নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ জারি করা হয়।
গত ৩ জুলাই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশ ভ্যানে করে তাদের তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়। পরে পেট্রাপোল সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালিকা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত তারা বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছায় এবং তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেখা যায়।
প্রাপ্ত তালিকায় দেখা যায়, প্রত্যাবাসন হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। প্রত্যেকের নামে পৃথক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশি সংস্থাগুলো তাদের পরিচয় ও ঠিকানা পুনরায় যাচাই করছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হবে। পরে, স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা তাদেরকে গ্রহণ করবে নিজনিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
এনজিও সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে ফেরত আসারা বিভিন্ন সময়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে ভালো কাজের আশায় ভারতে গিয়েছিল। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়। তারা ২থেকে ৫বছর সাজাভোগ শেষে ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরেছে। ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের আআইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ২৫ জন ও রাইটস যশোর ২৫ জনকে গ্রহণ করবেন নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
প্রত্যাবাসন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুল হাকিমের ছেলে মাজহারুল ইসলাম, সবুর আলীর মেয়ে লিপি আক্তার সুমি, আলী আহাম্মেদের ছেলে আমিন, আমিনুল ইসলামের ছেলে নজমুল হোসেন, আব্দুল মান্নানের ছেলে নজরুল ইসলাম, আব্দুল মজিদের ছেলে রইস উদ্দিন, শহীদ আলীর ছেলে ফারহাদ আলী, আনোয়ার হোসেনের ছেলে রাসেল, উম্মতের ছেলে সোপান, মোজিদ মিয়ার মেয়ে মাফিয়া বেগম (সনি শেখ), আব্দুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ আফসার আলী মৃধা, আব্দুল গণির ছেলে জাকির হোসেন মিঠু, মতালেব হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম, শামছুদ্দিন গাজীর ছেলে রফিক গাজী, মেইন উদ্দিন প্রধানের ছেলে ইয়াসিন মিয়া, জয়রুল ইসলামের মেয়ে নুপুর খাতুন, আবু বক্করের ছেলে জনি, আব্দুল জলিলের ছেলে সোহেল, এ. কুদ্দুসের ছেলে আলাউদ্দিন, মৃত মিজানের ছেলে আলামিন (কামাল), মৃত আব্দুল গণির ছেলে উজ্জ্বল মিয়া, কালু হাওলাদারের ছেলে হালিম, আকবর হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম, আবু তালেবের ছেলে আবু ঈসা, সিদ্দিক আলীর ছেলে সোপান আলী, মৃত ফরিদের ছেলে হৃদয়, আন্নার হোসেনের ছেলে সজিব হোসেন, জয়নাল আবদিনের ছেলে শরীফ হোসেন, শামসুল হক আকন্দের ছেলে আবু সামা আকন্দরাজ, সিরাজের ছেলে মিজান, হোসেন আলীর ছেলে কাশেম, সরোয়ার মোল্লা ওরফে সায়েয়র শেখের ছেলে রাজিব মোল্লা (রাজিব শেখ), জয়নাল মোল্লার ছেলে হানিফ ইসলাম (হানিফ গাজী), রুস্তম আলী মোল্লার ছেলে মাহমুদ, আব্দুল জলিল শেখের ছেলে আসরাফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলামের ছেলে শাকিল ভূঁইয়া, ইউনুস শেখের ছেলে শাকিল হোসেন, সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সুমন মিয়া, হারিসমালের ছেলে শাহীন মিয়া, মুকুল হোসেনের ছেলে রহমত উল্লাহ, আবু বক্করের ছেলে ফিরোজ মোহাম্মদ, আলী আকবরের ছেলে পান্না, আব্দুল সোবহান গাজীর ছেলে মেরাজ হোসেন গাজী, মোহাম্মদ পান্নার ছেলে মোহাম্মদ মহিন, সোলাইমান হাওলাদের মেয়ে ফাতেমা বেগম, পান্না হাওলাদারের মেয়ে সালমা বেগম, দেওয়ার হাওলাদারের ছেলে সলেমান হাওলাদার, ফজল খানের মেয়ে ফঅহিমা বেগম, আকমলের ছেলে মহররম আলী ও মোবারক মোল্লার ছেলে মামুন মিয়া।
