ভিনিসিয়ুস
‘হেক্সা মিশন’ সফল করতে শক্তিশালী স্কোয়াড আছে ব্রাজিলের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ফাইল ছবি
ক্যারিয়ারে প্রথম সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র খেলেছিলেন। তখনো আহামরি কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি। অবশ্য ব্রাজিলের চার ম্যাচের প্রথম একাদশেই তার নাম ছিল। গত চার বছরে নিজেকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার।
ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে তার কাঁধে থাকবে গুরুদায়িত্ব। ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের এবং কোচ কার্লো আনচেলোত্তির কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ফিফা ডটকমে দেওয়া ভিনিসিয়ুসের সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ নিয়ে এই আয়োজন
তারকা হিসেবে এবার বাড়তি চাপ
এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমি সেলেসাওদের হয়ে খেলছি ১৯ বছর বয়স থেকেই। আগে ছিলাম কেবল এক উদীয়মান প্রতিভা, কিন্তু এখন আমি সম্মুখভাগে থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং চেষ্টা করছি ব্রাজিলকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নেওয়ার।
সত্যিই আমি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এই বিশাল দায়িত্ব।
ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায়
কে ফেভারিট, তা নিয়ে খুব একটা ভাবি না। কারণ দিনশেষে আমাদেরই মাঠে নেমে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়। গত বিশ্বকাপে আমাদের দুর্দান্ত একটি দল ছিল এবং আমরা খুব কম ম্যাচেই হেরেছিলাম।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
দীর্ঘ সময় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জিততে না পারার চাপ
ফুটবলে অনেক চাপ থাকে, বিশেষ করে জাতীয় দলে। আমরা অনেক দিন হলো বিশ্বকাপ জিতিনি। আমরা জানি মাঠের চাপ প্রবল হবে, কিন্তু মাঠের বাইরে শান্ত থাকাটা সাহায্য করবে আমাদের আরো ভালো খেলতে। এটি কেবল ফুটবলের বিষয় নয়।
কয়েক মাস ধরে কোচের অধীনে কাজ করছি আমরা, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে উন্নতিও করছি। বিশ্বকাপ শুরু হতে হতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাব।
ব্রাজিলের ‘হেক্সা মিশন’ সফল করার চ্যালেঞ্জ
আমাদের একটি শক্তিশালী স্কোয়াড আছে, যেখানে অনেক খেলোয়াড় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে আমরা শিখেছি যে এই টুর্নামেন্ট সংক্ষিপ্ত হলেও খুব কঠিন, তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যখন এক বা দুজন খেলোয়াড় আহত হয়, যেমনটা গত বিশ্বকাপে হয়েছিল, তখন তা দলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে। তাই যেকোনো প্রতিকূলতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদের।
কোচ আনচেলোত্তির কর্মপরিকল্পনা
আমি অনেক কিছু শিখেছি তার কাছ থেকে। কারণ যখন তিনি ক্লাবে আসেন তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২১। তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি বছর ছিল বিশেষ কিছু। তিনি আমার দেখা এযাবৎকালের সেরা কোচ। আনচেলোত্তি প্রতিদিন যে শান্ত মেজাজ ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেন, ইতালীয় কোচ দায়িত্ব নেওয়ার সময় জাতীয় দলের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল সেটাই।
আনচেলোত্তি যে দর্শন নিয়ে ব্রাজিলে কাজ করছেন
আজকাল সব জাতীয় দলই জোর দেয় সম্মিলিত শক্তির ওপর। সবাই নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলায় এবং আক্রমণে তিনি আমাদের পজিশন পরিবর্তন করার এবং স্বাভাবিক থেকে ব্রাজিলিয়ান শৈল্পিকতায় খেলার স্বাধীনতা দেন। তিনি ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের খুব পছন্দ করেন, সে কারণেই তিনি এখানে। ফুটবল মাঝেমধ্যে খুব জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু আনচেলোত্তির মতো মানুষ আছেন, যাঁরা এসে সহজ করে দেন সবকিছু।
