বিএসএফের পুশইন চেষ্টার পর স্বজনদের কাছে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন
জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টার পর শূন্য রেখায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে (৬৫) উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ও থানা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে তাঁর ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের কাছে বুঝিয়ে দেয়। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।
গত বুধবার সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ-সংলগ্ন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলার দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করে।
সীমান্তে দিনভর টানটান পরিস্থিতির পর বৃহস্পতিবার সকালে রামরামপুর সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে বিজিবি সদস্যরা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেলে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তরের সময় সীমান্ত ও থানাপ্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন, উদ্ধার হওয়া ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য।
নিখোঁজ ভাইকে ফিরে পেয়ে বিজিবি, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার।
