এতিমদের জন্য তহবিল ও পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হতদরিদ্র এতিম শিশুদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে 'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩'-এর বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো দূর করে এর কঠোর ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির নিরিখে ভাতার হার বৃদ্ধি এবং উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভাতা বিতরণ পর্যন্ত কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করা হবে। অধিকন্তু, সমাজের অবহেলিত গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পেনশনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে পেনশন তহবিল (পেনশন ফান্ড) ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মোট অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ ছাড়া সরকার হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন এবং পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর দুর্বলতা দূর করে এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ৩১ মে নুরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, তার ছেলে একজন যুগ্ম সচিব এবং অন্য ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন অধ্যাপক হলেও দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনার আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই একই এলাকার আরেকটি বাসা থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের একটি বাড়িতে একা বসবাস করতেন তিনি।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার স্বামী ও সন্তানরা কানাডায় থাকেন। কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হলেও কেউ তা জানতে পারেনি।
পরপর দুটি ঘটনা সামনে আসার পর ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এর কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
