ক্রিকেটের ‘স্নিকো’ এবার ফুটবল বিশ্বকাপে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেটে ব্যাটে বল লেগেছে কি না বোঝার জন্য ‘স্নিকো’ বা আল্ট্রাএজ এখন পরিচিত প্রযুক্তি। ফুটবল বিশ্বকাপেও এবার সেই ধরনের প্রযুক্তি নতুন করে আলোচনায়। সুইডেন-তিউনিসিয়া ম্যাচে বল স্পর্শ শনাক্ত করার প্রযুক্তির সহায়তায় বদলে গেল গোলের সিদ্ধান্ত। শুরুতে অফসাইডে বাতিল হওয়া মাটিয়াস সভানবেরির গোল শেষ পর্যন্ত বহাল রাখেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
মন্টেরেতে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে সুইডেন। ইয়াসিন আয়ারি জোড়া গোল করেন, আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও সভানবেরি একটি করে গোল করেন। বড় জয়েই খবর হওয়ার কথা ছিল সুইডেনের। কিন্তু ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সভানবেরির গোল ও সেটির পেছনের প্রযুক্তি।
ঘটনাটি ম্যাচের শেষ দিকে। বদলি নেমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বল জালে পাঠান সভানবেরি। সুইডিশদের উদ্যাপন শুরু হলেও সহকারী রেফারি পতাকা তোলেন। সিদ্ধান্ত, অফসাইড। মাঠে সুইডেনের খেলোয়াড় ও বেঞ্চের আপত্তি ছিল, কারণ তাদের দাবি, বলটি সভানবেরির কাছে যাওয়ার আগে ইসাক ছুঁয়েছিলেন।
এখানেই আসে সংযুক্ত বল প্রযুক্তি। ক্রিকেটে যেমন ব্যাটে বল লাগলে স্নিকোতে একটি স্পাইক দেখা যায়, ফুটবলেও বলের ভেতরের সেন্সর স্পর্শের সূক্ষ্ম মুহূর্ত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। রিপ্লে ও প্রযুক্তিগত তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, বল ইসাকের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় স্পর্শের সংকেত পাওয়া গেছে। সেই স্পর্শের কারণেই সভানবেরির অবস্থান আর অফসাইড হিসেবে গণ্য হয়নি।
ফলে গোলটি বহাল থাকে। স্কোরলাইন হয় ৪-১। পরে যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আয়ারি সুইডেনের জয়কে ৫-১ করেন।
ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন নয়। গোললাইন প্রযুক্তি, ভিএআর, আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড—এসব এখন বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকেই বলের ভেতরের সেন্সর অফসাইড সিদ্ধান্তে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বলের স্পর্শ শনাক্ত করতে ক্রিকেটের স্নিকো-ধাঁচের ধারণা ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। কারণ এটি এমন এক জায়গায় সাহায্য করে, যেখানে চোখে দেখা রিপ্লেও অনেক সময় যথেষ্ট পরিষ্কার হয় না।
ফুটবলে অফসাইড সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্র স্পর্শ অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বল কোনো সতীর্থ ছুঁয়েছেন কি না, প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে খেলেছেন কি না, বলের দিক সামান্য বদলেছে কি না—এসবের ওপর নির্ভর করে গোল থাকবে নাকি বাতিল হবে। সভানবেরির গোলের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। ইসাকের স্পর্শ ধরা পড়ায় গোল ফিরেছে সুইডেনের পক্ষে।
এই প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্কও থাকতে পারে। অনেকের কাছে ফুটবল ক্রমেই অতিরিক্ত যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। আবার অন্যদের যুক্তি, এত বড় মঞ্চে ভুল সিদ্ধান্তের জায়গা কমানোই জরুরি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে একটি গোল শুধু ম্যাচ নয়, পুরো গ্রুপের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
সুইডেনের জন্য এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল বদলানোর মতো ছিল না, কারণ তারা তখনই এগিয়ে ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহারের আলোচনায় ঘটনাটি আলাদা জায়গা পাবে। ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত দর্শকদের জন্য এটি আরও আকর্ষণীয়, যে ধারণা ব্যাটে বল লেগেছে কি না বোঝায়, সেই একই ধরনের প্রযুক্তিগত ভাবনা ফুটবলে বল ছুঁয়েছে কি না জানাচ্ছে।
ম্যাচের ফুটবলীয় গল্পও কম ছিল না। তিউনিসিয়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক রেকর্ড নিয়ে এসেছিল, কিন্তু সুইডেন তাদের ভেঙে দেয়। আয়ারি শুরুতে গোল করেন, ইসাক ব্যবধান বাড়ান, ওমর রেকিক তিউনিসিয়ার হয়ে ব্যবধান কমালেও দ্বিতীয়ার্ধে ইয়োকেরেস, সভানবেরি ও আয়ারির গোল ম্যাচ একতরফা করে।
