ব্রাজিল শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারলে কী হবে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
ফাইল ছবি
হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়েছে ব্রাজিল। দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ ‘সি’-তে কার্লো আনচেলত্তির দলের পয়েন্ট ৪। মরক্কোর পয়েন্টও ৪। স্কটল্যান্ড আছে ৩ পয়েন্টে, আর হাইতির পয়েন্ট এখনো শূন্য। এই অবস্থায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। প্রশ্ন হলো—সেই ম্যাচে ব্রাজিল হারলে কী হবে?
সোজা উত্তর, স্কটল্যান্ডের কাছে হারলেও ব্রাজিল সরাসরি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বে না। তবে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে থাকা আর তাদের হাতে থাকবে না। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আট তৃতীয় দলও শেষ ৩২-এ উঠবে। তাই স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে গেলেও ব্রাজিলের সামনে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে ওঠার পথ খোলা থাকতে পারে।
বর্তমান অবস্থায় ব্রাজিলের পয়েন্ট ৪, গোল ব্যবধান +৩। মরক্কোর পয়েন্ট ৪, গোল ব্যবধান +১। স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ৩, গোল ব্যবধান শূন্য। শেষ ম্যাচে যদি স্কটল্যান্ড ব্রাজিলকে হারায়, তাহলে স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ৬। সে ক্ষেত্রে তারা ব্রাজিলকে টপকে যাবে। ব্রাজিল আটকে থাকবে ৪ পয়েন্টে।
এরপর সবকিছু নির্ভর করবে মরক্কো-হাইতি ম্যাচের ফলের ওপর। একই সময়ে মরক্কো খেলবে হাইতির বিপক্ষে। মরক্কো যদি হাইতিকে হারায়, তাদের পয়েন্ট হবে ৭। সে ক্ষেত্রে গ্রুপের শীর্ষ দুই হবে মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ব্রাজিল ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হবে।
মরক্কো যদি হাইতির সঙ্গে ড্র করে, তাদের পয়েন্ট হবে ৫। তখনও স্কটল্যান্ড ৬ পয়েন্টে এবং মরক্কো ৫ পয়েন্টে ব্রাজিলের ওপরে থাকবে। ব্রাজিল আবারও তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে। অর্থাৎ ব্রাজিল হারলে এবং মরক্কো অন্তত ড্র করলেই ব্রাজিলের শীর্ষ দুইয়ে থাকা শেষ।
তবে মরক্কো যদি হাইতির কাছে হারে, তখন হিসাব আরও জটিল হবে। সে ক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড ৬ পয়েন্টে গ্রুপের শীর্ষে উঠবে। ব্রাজিল ও মরক্কো দুদলেরই পয়েন্ট থাকবে ৪। তখন দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণে আসবে গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যার হিসাব। ব্রাজিল এখন গোল ব্যবধানে মরক্কোর চেয়ে এগিয়ে আছে। তাই স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারলে এবং মরক্কো হাইতির কাছে হারলে ব্রাজিলের দ্বিতীয় হওয়ার সুযোগ থাকবে।
কিন্তু ব্রাজিল যদি বড় ব্যবধানে হারে এবং মরক্কো অল্প ব্যবধানে হারে, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তখন গোল ব্যবধান, গোলসংখ্যা, এমনকি প্রয়োজনে পরের টাইব্রেকারও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই স্কটল্যান্ডের কাছে হারলে ব্রাজিলের সবচেয়ে নিরাপদ পথ থাকবে না; অপেক্ষা করতে হবে মরক্কো-হাইতির ফল এবং গোল ব্যবধানের দিকে।
তবে ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির জায়গাও আছে। ৪ পয়েন্ট সাধারণত সেরা তৃতীয় দলের দৌড়ে শক্ত অবস্থান। কারণ ১২টি গ্রুপের ১২ তৃতীয় দলের মধ্যে সেরা আট দল শেষ ৩২-এ যাবে। অর্থাৎ চারটি তৃতীয় দল বাদ পড়বে। ব্রাজিল যদি তৃতীয়ও হয়, ৪ পয়েন্ট ও ভালো গোল ব্যবধান তাদের বড় সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে হলে অন্য গ্রুপগুলোর ফলও দেখতে হবে।
ব্রাজিলের সবচেয়ে সহজ সমীকরণ অবশ্য পরিষ্কার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে কোনো হিসাব থাকবে না। তখন ব্রাজিল ৭ পয়েন্টে শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে এবং গ্রুপসেরা হওয়ার সম্ভাবনাও শক্ত থাকবে। ড্র করলেও ব্রাজিলের পয়েন্ট হবে ৫, যা শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্য যথেষ্ট হওয়ার কথা। কারণ তখন স্কটল্যান্ড ৪ পয়েন্টে থাকবে এবং ব্রাজিলের পেছনে থাকবে।
চাপ তাই মূলত হার এড়ানোর। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের পর হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয় ব্রাজিলকে স্বস্তি দিয়েছে। মাতেউস কুনহার জোড়া গোল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল এবং মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েসের নিয়ন্ত্রণ আনচেলত্তির দলকে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু রাফিনিয়ার চোট নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
স্কটল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি বাঁচামরার লড়াই। তারা ব্রাজিলকে হারাতে পারলে ৬ পয়েন্টে উঠে সরাসরি শেষ ৩২-এর পথে চলে যাবে। ড্র করলে তাদের পয়েন্ট হবে ৪, তখন সেরা তৃতীয় দলের হিসাব বা মরক্কো-হাইতি ম্যাচের দিকে তাকাতে হতে পারে। হারলে ৩ পয়েন্টে থেমে যাবে তারা, যা ঝুঁকিপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের সামনে তিনটি সম্ভাবনা। জয় পেলে নিশ্চিত স্বস্তি। ড্র করলেও পথ প্রায় পরিষ্কার। কিন্তু হারলে ব্রাজিলকে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ের বদলে সেরা তৃতীয় দলের অঙ্কে নেমে যেতে হতে পারে। তাই স্কটল্যান্ড ম্যাচ আনচেলত্তির দলের জন্য শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, গ্রুপের অবস্থান ও নকআউটের পথ নির্ধারণের বড় পরীক্ষা।
