বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় এগিয়ে যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ছবি ; সংগৃহীত
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর থেকেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে শপথ নিলে মহাসচিবের পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হবে। ফলে নতুন মহাসচিব বাছাইয়ে দলের ভেতরে সম্ভাব্য কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো নতুন মহাসচিব হিসেবে কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। দলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপাতত গঠনতান্ত্রিক নিয়মে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। পরবর্তীতে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে অথবা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নিয়োগ হতে পারে।
রুহুল কবির রিজভী
মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতা মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের নিয়মে মির্জা ফখরুলের পদ শূন্য হলে রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন।
রিজভী নিজেও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি সেটির জন্য অপেক্ষা করছেন।
এরই মধ্যে রিজভীকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত করা হয়েছে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সালাহউদ্দিন আহমদ
সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে দলীয় পর্যায়ে মহাসচিব পদ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। ফলে সালাহউদ্দিন আহমদের নামটি আপাতত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নামও সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলের সাংগঠনিক পর্যায়ে সক্রিয়তার কারণে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে দলের শীর্ষ পর্যায়ে তাকে নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
হাবিব উন নবী খান সোহেল
সম্ভাব্য মহাসচিবের তালিকায় আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় এসেছে। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় এই নেতার নাম বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আলোচনায় রয়েছে।
তবে অন্যদের মতো তার ক্ষেত্রেও দলীয়ভাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার হাতে?
বিএনপির নেতারা বলছেন, মহাসচিব পদে শেষ পর্যন্ত কে আসবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর। দলীয় ফোরামে আলোচনা হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য নামগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, মহাসচিব হওয়ার মতো যোগ্য নেতা দলে অনেকেই রয়েছেন। তবে গঠনতান্ত্রিক নিয়মে প্রাথমিকভাবে রুহুল কবির রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কখন চূড়ান্ত হতে পারে নতুন মহাসচিব?
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ নিলে একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ ছাড়তে হবে। এরপরই মহাসচিব পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হবে।
দলের নেতাদের ধারণা, প্রথমে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাউন্সিল ছাড়াও দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে মহাসচিব নিয়োগের নজির বিএনপিতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের নেতৃত্বের পর বিএনপির মহাসচিব পদে রুহুল কবির রিজভীই আপাতত সবচেয়ে এগিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে বসছেন।
