মানজাম্বির জাদুতে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে সুইস তারকা জোহান মানজাম্বির গল্পটা যেন প্রতি ম্যাচেই বড় হচ্ছে। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার আবারও সুইজারল্যান্ডের জয়ের কেন্দ্রে। তার দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে সুইসরা।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই সংগঠিত ছিল সুইজারল্যান্ড। মুরাত ইয়াকিনের দল খুব বেশি ঝুঁকি নেয়নি, কিন্তু সুযোগ এলে তা কাজে লাগিয়েছে নিখুঁতভাবে। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মানজাম্বিই।
১০ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে শক্তি, গতি ও কৌশল মিলিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যান তিনি। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে পেছনে ফেলে বাইলাইনে পৌঁছে নিচু পাস দেন ব্রিল এমবোলোর দিকে। কাছ থেকে গোল করতে ভুল করেননি সুইস ফরোয়ার্ড। সেই গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সুইজারল্যান্ডের হাতে।
আলজেরিয়া শুরুতে দ্রুত পাসে কিছুটা সম্ভাবনা দেখালেও শেষ তৃতীয়াংশে ধার খুঁজে পায়নি। রিয়াদ মাহরেজ, হুসেম আওয়ার, ফারেস চাইবি কিংবা ইব্রাহিম মাজাদের কেউই সুইস রক্ষণকে নিয়মিত অস্বস্তিতে ফেলতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাহরেজের ক্রস থেকে মাজা সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
সুইজারল্যান্ডের জন্য মানজাম্বি এখন শুধু উদীয়মান প্রতিভা নন, কার্যকর ম্যাচ-উইনার। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে তাঁর অবদান ৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে বেঞ্চ থেকে শুরু করেও তিনি দ্রুত দলের আক্রমণের সবচেয়ে আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
বিরতির পর আলজেরিয়ার ফেরার আশা আরও কমে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ড্যান এনদোয়ের শটে সুইজারল্যান্ড পায় দ্বিতীয় গোল। আলজেরিয়ার রক্ষণ বিপদ কাটাতে ব্যর্থ হয়, আর বক্সের বাইরে থেকে সময় নিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান এনদোয়ে। গোলরক্ষক লুকা জিদান ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু ঠেকাতে পারেননি।
এরপর আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ পরিবর্তন করেও ম্যাচে ফিরতে পারেননি। আমিন গুইরি, আনিস হাজ মুসা ও হিচেম বুদাউয়িদের নামানো হলেও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার আসেনি। সুইজারল্যান্ড বরং আরও গোল করতে পারত। শেষ দিকে ফাবিয়ান রিডারের সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
সুইসদের অভিজ্ঞতার জায়গাটিও ম্যাচে স্পষ্ট ছিল। গ্রানিত জাকা মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, ম্যানুয়েল আকানজি ও নিকো এলভেদি রক্ষণ সামলেছেন স্থিরভাবে, আর গ্রেগর কোবেলকে খুব কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। আলজেরিয়ার বল দখল থাকলেও কার্যকর আক্রমণ ছিল কম।
এই জয় সুইজারল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিকও। ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচ জিতল তারা। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া ও ঘানার ম্যাচের বিজয়ী দল
