আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে ৫ কারণে জিততে পারে কেপ ভার্দে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের আসল চমক এখন কেপ ভার্দেই। ‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত দলটি গ্রুপ ‘এইচ’-এ স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে ড্র করে মূল্যবান ৩ পয়েন্ট তুলে নেয়। আর তাতেই তাদের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেই এমন অর্জন সত্যি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বে কেপ ভার্দের এবার মুখোমুখি হচ্ছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার। শেষ ষোলো নিশ্চিতের লড়াইয়ে তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪ টায় মাঠে নামবে দুই দল।
কাগজে-কলমে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা আকাশচুম্বী ফেবারিট হলেও, বিশ্বকাপের ইতিহাস কিন্তু বড় বড় সব অঘটন আর রূপকথা দিয়েই লেখা। গত ১৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলতে আসা প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া কেপ ভার্দে কীভাবে আরও একটি অবিশ্বাস্য ‘মিরাকল’ ঘটিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে পারে— তারই ৫টি শক্তিশালী কারণ দেখে নেওয়া যাক।
চাপহীন নির্ভীক ফুটবল
হারানোর কী-ই বা আছে কেপ ভার্দের? ঠিক এই মানসিকতা নিয়েই ‘ব্লু শার্কস’রা বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়েছিল, আটকে দিয়েছিল শক্তিশালী উরুগুয়েকেও। মাঠের অপর প্রান্তে প্রতিপক্ষ যত বড় ফেবারিটই হোক না কেন, কেপ ভার্দের ফুটবলাররা বুক চিতিয়ে লড়েছেন একদম নির্ভার হয়ে, কোনো চাপ ছাড়াই। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তাদের ঠিক একই কাজ করতে হবে। কেননা, পরের পর্বে যাওয়ার সব ‘দায়িত্ব’ ও চাপ পুরোপুরি থাকবে ল্যাটিন আমেরিকার দলটির ওপর; আর কেপ ভার্দেকে ঠিক এই সুযোগটাই লুফে নিতে হবে। ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, তাদের এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স তো ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েই গেছে।
ভোজিনিয়ার বিশ্বস্ত গ্লাভস
জোশিমার জোসে এভোরা ডিয়াস—ফুটবল বিশ্ব যাকে ‘ভোজিনিয়া’ নামে চেনে। চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার সবচেয়ে বড় প্রতীক তিনি। উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পেছনে মূল নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার। আফ্রিকান এই দেশটিতে তিনি ইতিমধ্যেই এক জীবন্ত কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছেন। সতীর্থদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ও অনুপ্রেরণার উৎস এই গোলকিপারকে ঘিরেই এখন স্বপ্ন দেখছে পুরো দেশ; তিনিই পারেন আর্জেন্টিনার চেনা আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করে দিতে।
অভেদ্য রক্ষণব্যুহ
চলতি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছিল এককথায় দুর্দান্ত; তিন ম্যাচে তারা গোল খেয়েছে মাত্র দুটি। গোলকিপার ভোজিনিয়ার পরীক্ষা নেওয়ার আগেই ‘ব্লু শার্কস’দের এই রক্ষণভাগের ওপর দায়িত্ব থাকবে থিয়াগো আলমাদা, লাউতারো মার্তিনেজ আর লিওনেল মেসিদের মতো তারকাদের আটকে দেওয়ার। ডিনে বোর্হেস, রবার্তো পিকো লোপেস, স্টিভেন মরেইরা এবং সিডনি ক্যাব্রালকে নিয়ে গড়া এই ডিফেন্সিভ লাইনের ওপর পুরো কেপ ভার্দের অগাধ আস্থা রয়েছে।
মেন্টর বুবিস্তা
পেড্রো লেইতাও ব্রিতো—যিনি ফুটবল বিশ্বে এখন ‘বুবিস্তা’ নামেই সমধিক পরিচিত। কেপ ভার্দের সাবেক এই ডিফেন্ডারই এখন দলটির প্রধান কোচ এবং এই আফ্রিকান দলটির পেছনের মূল মাস্টারমাইন্ড বা বুদ্ধিবৃত্তিক রূপকার। দলটির সাবেক এই অধিনায়ক ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন, আর ২০২০ সাল থেকে সামলাচ্ছেন ‘ব্লু শার্কস’দের ডাগআউট। তার হাত ধরেই দেশ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষেও তিনি খেলোয়াড়দের ‘নির্ভীক’ ফুটবল খেলার মন্ত্র শিখিয়েছেন এবং অসম্ভবকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছেন।
কেপ ভার্দের শক্তির নেপথ্য দর্শন নিয়ে কোচের ভাষ্য ছিল ঠিক এমন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছি যে—একটি দেশ ছোট হতে পারে, অর্থনৈতিক সংকট থাকতে পারে; কিন্তু তাদের মধ্যে যদি ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ আর কষ্টসহিষ্ণুতা থাকে এবং তারা যদি সুসংগঠিত হয়ে কাজ করতে পারে, তবে বিশ্বের যেকোনো বড় বড় পরাশক্তির বিরুদ্ধেও সমানে সমানে লড়াই করা সম্ভব। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মান কিংবা অঢেল অর্থকড়ি তখন কোনো বাধাই হতে পারে না।’
বিশ্বকাপে অঘটনের ইতিহাস
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল মাত্র আটটি: জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ইতালি এবং উরুগুয়ে। তবে এই তালিকাটা ছোট বলেই যে বিশ্বমঞ্চে বড় অঘটন ঘটে না, তা কিন্তু নয়।
উদাহরণস্বরূপ এই আর্জেন্টিনাকেই ধরা যাক; ১৯৯০ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হলেও গ্রুপ পর্বে তারা ক্যামেরুনের কাছে হেরে বসেছিল। আর ২০২২ সালে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরুই করেছিল সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য এক হার দিয়ে। এছাড়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসেই বিশ্বকে চমকে দিয়ে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া; ঠিক একইভাবে ২০০২ সালে ৪৮ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে খেলতে এসে অবিশ্বাস্যভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল তুরস্ক।
