কেন বাতিল হলো ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া ভেবেছিল, তারা অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফিরেছে। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন ইয়োশকো গভার্দিওল। মাঠে প্রথমে গোলের উল্লাসও শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষার পর গোলটি বাতিল হয়। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
ঘটনাটি ছিল যোগ করা সময়ের একেবারে শেষের দিকে। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণভাগ ও পর্তুগালের ডিফেন্সের মধ্যে হেডের লড়াই হয়। সেখান থেকে এরপর মারিও পাসালিচ বল পেয়ে বাড়ান গভার্দিওলের দিকে, আর তিনি কাছ থেকে গোল করেন। দেখে মনে হচ্ছিল অবিশ্বাস্য ভাবে সমতায় ফিরেছে ২০১৮ সালের রানার্সআপরা। কিন্তু ভাগ্য অতটা সহায় ছিল না ক্রোয়াটদের। রিপ্লে ও প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায়, পাসালিচ বল পাওয়ার আগে আক্রমণের পথে ইগর মাতানোভিচের স্পর্শ ছিল।
সিদ্ধান্তের মূল জায়গা ছিল সেখানেই। প্রথমে মনে হচ্ছিল, মাতানোভিচ হয়তো বল ছোঁয়েননি। সে ক্ষেত্রে পাসালিচের অবস্থান নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার যুক্তি শক্তিশালী হতে পারত। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষায় বলের ভেতরের সেনসর থেকে পাওয়া সংকেতে মাতানোভিচের সূক্ষ্ম স্পর্শ ধরা পড়ে।

ক্রিকেটে যেমন স্নিকোমিটারের সাহায্যে ব্যাটে বল লেগেছে কি না বোঝা যায়, বিষয়টি অনেকটা তেমনভাবে বোঝানো যায়। ফুটবলে অবশ্য প্রযুক্তিটি আলাদা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ত্রিওন্দা বলে থাকা সংযুক্ত বল প্রযুক্তি বলের নড়াচড়া ও স্পর্শের সূক্ষ্ম তথ্য ভিএআর ব্যবস্থায় পাঠায়। সেই তথ্যই এখানে সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ মাতানোভিচ বল ছুঁয়েছিলেন। তার সেই স্পর্শের মুহূর্তে পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। এরপর তিনি খেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং গভার্দিওলকে বল বাড়ান। অফসাইড আইনে, কোনো খেলোয়াড় সতীর্থের পাস বা স্পর্শের সময় অফসাইড অবস্থানে থেকে পরে বল খেললে বা খেলায় অংশ নিলে সেটি অফসাইড অপরাধ হিসেবে ধরা হয়।
তাই গোলটি বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্তটি চোখে খুব সূক্ষ্ম মনে হলেও নিয়মের হিসাবে সেটিই ছিল মূল পার্থক্য। মাতানোভিচ বল না ছুঁলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু তার সামান্য স্পর্শই পাসালিচের অবস্থানকে অফসাইডে পরিণত করে।
এই সিদ্ধান্ত পর্তুগালের জন্য স্বস্তি, ক্রোয়েশিয়ার জন্য হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত। গোলটি হলে ম্যাচ ২-২ হয়ে যেত এবং নাটক আরও বাড়ত। কিন্তু ভিএআর দেখাল, আক্রমণের মাঝপথে ক্ষুদ্র একটি স্পর্শই পুরো সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে।
পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে। রোনালদোর পেনাল্টি ও গনসালো রামোসের যোগ করা সময়ের গোল তাদের বাঁচিয়ে রাখে। আর গভার্দিওলের বাতিল গোল ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকল।
