গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই যেভাবে বিশ্বকাপের সেরা হলেন রদ্রি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জিতে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম স্থপতি ছিলেন দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলও করেননি, কোনো অ্যাসিস্টও নেই তাঁর নামের পাশে। তবুও আসরের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতেই।
স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে—গোল কিংবা অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হলেন রদ্রি?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁর খেলার ধরন ও মাঠে পালন করা দায়িত্বে। রদ্রি একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। এই পজিশনের খেলোয়াড়দের মূল দায়িত্ব গোল করা নয়, বরং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করা, দলের আক্রমণ ও রক্ষণভাগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা, খেলার গতি নির্ধারণ করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙে দেওয়া।
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। তাঁর উপস্থিতিতে দলটি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, ছন্দ বজায় রেখেছে এবং প্রতিপক্ষকে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের খুব কম সুযোগ দিয়েছে। মাঠে তাঁর শান্ত উপস্থিতি এবং নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পেনকে প্রতিটি ম্যাচে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
আরো পড়ুন : ফাইনালের হার নিয়ে যা বললেন লিওনেল মেসি
ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলের দখল ধরে রাখা, ছোট-বড় পাসে খেলার গতি বদলে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। আর এই দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিলেন রদ্রি, যিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই থামিয়ে দিয়ে রক্ষণভাগের ওপর চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন।
পরিসংখ্যানও তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের সাক্ষ্য দেয়। বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচে তিনি ৬৫০টির বেশি সফল পাস সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি বল পুনরুদ্ধার, ট্যাকল, ইন্টারসেপশন, মাঠজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন দৌড় এবং উচ্চগতির স্প্রিন্ট—সব ক্ষেত্রেই ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল বাস্তবায়নে রদ্রির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণ গড়ে তোলা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়া—সব দায়িত্বই তিনি সমান দক্ষতায় পালন করেছেন। ফলে গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকলেও দলের সাফল্যে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম।
অন্যদিকে, রানার্সআপ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও ৪টি গোল করিয়েছেন। আক্রমণভাগে তাঁর প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মেসিকে পেছনে ফেলেছেন রদ্রি।
কারণ, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফিফা শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করে না। একজন ফুটবলারের সামগ্রিক প্রভাব, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, কৌশলগত গুরুত্ব, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যে তাঁর ভূমিকা—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব পায়।
সেই বিচারে পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং অপরিহার্য ফুটবলার ছিলেন রদ্রি। নিখুঁত পজিশনিং, অসাধারণ পাসিং, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দলের ভারসাম্য বজায় রাখার দক্ষতার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের মূল্য শুধু গোল বা অ্যাসিস্ট দিয়ে বিচার করা যায় না। আর সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হিসেবে শেষ পর্যন্ত রদ্রিকেই বেছে নিয়েছে ফিফা।
