স্পেনের শিরোপা জয়ের মঞ্চে ইয়ামালের বান্ধবী, কে এই গার্সিয়া?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চোট নিয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ আসরে পা রেখে ছন্দ পেতে কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। টুর্নামেন্টজুড়ে স্রেফ একটি গোল পেলেও, প্রায় ম্যাচেই তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করেছেন। এই আসরে স্পেন দলের উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকজন পারফর্মার থাকলেও, ক্যামেরার আলোটা ছিল ১৯ বছর বয়সী তারকার দিকেই। মেটলাইফের রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে তার গলায় উঠেছে চ্যাম্পিয়নের মেডেল, পেলেন দ্বিতীয় মেজর ট্রফি।
এর আগে ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের সময়েও যাকে ফাঁকে ফাঁকে স্কুলের হোমওয়ার্ক সারতে হচ্ছিল, সেই তরুণ নিউজার্সিতে জিতলেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ। সেই উদযাপনে আবার তার ৩ বছর বয়সী ভাই কেইন তো ছিল–ই, পাশাপাশি ছিলেন বান্ধবী ইনেস গার্সিয়া সান্তোসও। পরবর্তীতে ইয়ামালকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি এটি সম্পন্ন করেছ। অভিনন্দন আমার ভালোবাসা, তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’

স্প্যানিশ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে বেশ পরিচিত গার্সিয়া। স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপনে উপস্থিত থেকে ইয়ামালের বান্ধবীও নেটিজেনদের আলোচনায় স্থান করে নিয়েছেন। এর আগে সৌদি আরবের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার পর গণমাধ্যমেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘এই গোলটি আমি আমার মা, আমার প্রেমিকা, আমার বন্ধুদের এবং মাতারোতে থাকা সবার জন্য উৎসর্গ করছি।’
সম্প্রতি ২১তম জন্মদিন উদযাপন করা স্প্যানিশ এই সামাজিক মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামালের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চলতি বছরের শুরুতে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটাতে দেখা যাওয়ার পর তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে মে মাসে বার্সেলোনার এক নৈশভোজে প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায় এই জুটিকে।
স্পেন ও বার্সেলোনার এই তারকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইনেস গার্সিয়া বলেন, ‘আমরা গ্রিসে যাওয়ার পর মানুষ আমাদের একসঙ্গে দেখতে শুরু করে। কিন্তু লামিনেকে আমি তারও অনেক আগে থেকেই চিনি। তিন বছর না হলেও, মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে আমাদের পরিচয়। আমরা সম্পর্কটিকে সময় দিয়েছি। একে অপরের সঙ্গে দেখা করার আগে অনেকদিন শুধু কথা বলেছি।’
দুজনের পরিচয়ের সূত্রটা কোথা থেকে সেটিও জানালেন গার্সিয়া, ‘আপনারা হয়তো কোনো রূপকথার প্রেমের গল্প শুনতে চাইছেন—যেন কোনো দোকানে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কিংবা সে ছিল আমার নায়ক। কিন্তু সত্যিটা হলো—৩, ২, ১... সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম!’ উভয়ের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ইনেস বিশ্বকাপে স্পেনের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। বেশিরভাগ সময়ই তাকে ইয়ামালের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।
এদিকে, বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার পারফর্ম করবেন– এই ঘোষণা আসার পর ইনেস গার্সিয়া ইয়ামালের উদ্দেশে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেটি শেয়ার করে স্প্যানিশ ভাষায় লেখেন, ‘ফাইনালে পৌঁছাতে যা যা করা লাগে, সব করো। শুনছ? যা লাগে, তাই করো।’
