খেলোয়াড়দের দাঁতের যত্নে কি আলাদা টুথপেস্ট লাগে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলের বুট থেকে ক্রিকেটের ব্যাট—পেশাদার অ্যাথলেটদের প্রয়োজনীয় প্রতিটি সরঞ্জামই প্রস্তুত করা হয় বিশেষ পরিকল্পনায়। তাহলে কি সাধারণ টুথপেস্টের বাইরে তাদের দাঁতের সুরক্ষায়ও কোনো বিশেষ টুথপেস্ট রয়েছে?
সম্প্রতি বাংলাদেশে বাজারজাতকৃত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) বছরব্যাপী এক গবেষণায় দেখা যায়, এসব নমুনার প্রায় ৭৬.৫ শতাংশেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সার্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা ক্রীড়াবিদদের ওপর এর বিশেষ কোনো প্রভাব পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট কোনো টুথপেস্ট বাধ্যতামূলক নয়। তবে যাদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শে সাধারণ টুথপেস্টের পরিবর্তে বেশি ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা হতে পারে।’
আরো পড়ুন: জ্বালানি সংকটে বন্ধ সার কারখানা, ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা
বিশ্ব দন্ত সংস্থার (এফডিআই) নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদসহ সাধারণ সবারই দৈনিক অন্তত দুবার এবং প্রতিবারে দুই মিনিট করে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজা উচিত। এ ছাড়া খাবার গ্রহণের অন্তত ৩০ মিনিট পর দাঁত ব্রাশ করা এবং তৎক্ষণাৎ ব্রাশ করার সুযোগ না থাকলে অন্তত পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খ্যাতনামা অ্যাথলেট হলেই যে বিশেষ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে এমনটি নয়, বরং দাঁতের সার্বিক অবস্থা, ক্ষয়ের তীব্রতা এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টুথপেস্ট নির্ধারণ করা জরুরি। যেসব ক্রীড়াবিদের দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ২৮০০ থেকে ৫০০০ পিপিএম উচ্চ ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট ব্যবহারের সুপারিশ করতে পারেন।
স্পোর্টস ড্রিংকস, এনার্জি জেল ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের চিনি ও অ্যাসিড অ্যাথলেটদের দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের প্রধান কারণ। এর সঙ্গে শারীরিক পানিশূন্যতা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং লালাপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো ক্ষয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপে দাঁত ঘষা কিংবা ক্লোরিনযুক্ত কম পিএইচ পানির সংস্পর্শও অ্যাথলেটদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।
২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ৩৯৯ জন ক্রীড়াবিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে—৫৫ শতাংশের দাঁতে ক্ষয়, ৪৫ শতাংশের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৭৬ শতাংশের মাড়ির রোগ ছিল। এমনকি ১৮ শতাংশ খেলোয়াড় জানান, দাঁতের যন্ত্রণার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তাঁদের খেলার পারফরম্যান্সে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘দাঁতের তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ বা আক্কেলদাঁতের সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অনেক পেশাদার ক্রীড়া দল এখন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের দাঁতের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে। পাশাপাশি সংস্পর্শমূলক খেলায় দাঁত সুরক্ষার জন্য মাউথগার্ড ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়।’
সার্বিকভাবে, খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা কোনো ‘বিশেষ টুথপেস্ট’ নেই। তবে নিয়মিত মুখের যত্ন, সঠিক ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্তচিকিৎসকের পরামর্শই সুস্থ দাঁত ও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
