×

সরকার

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন করে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ কিংবা কার্যধারা দায়ের করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এ অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে সংঘটিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

অধ্যাদেশে বলা হয়, এসব প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটেই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত ওই মামলা বা কার্যধারায় আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। সেক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

আরো পড়ুন : সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নিহত ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) সদস্য হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

আর যদি কমিশনের তদন্তে দেখা যায় যে অভিযোগে উল্লিখিত কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তাহলে কমিশন উপযুক্ত বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।

টাইমলাইন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দেশেই আছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল

দেশেই আছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল

ভারত–চীন সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা শি জিনপিংয়ের

ভারত–চীন সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা শি জিনপিংয়ের

পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেবে না সরকার

পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেবে না সরকার

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App