সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে ভিসা নীতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সোমবার প্রকাশিত ব্যাখ্যামূলক বার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরে। এতে বলা হয়—
- মার্কিন ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।
- ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov-এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।
- নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
- ভিসা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য, যা হবে একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি)।
- নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
ভিসার সব শর্ত পূরণ করে দেশে ফিরে এলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। শর্তের মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা।
বাংলাদেশের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এখন বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান—অর্থাৎ ওভারস্টে করেন—তাদের নিরুৎসাহিত করা। মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেশে ফিরে না আসার হার বেশি, সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশিরা কেবল এই তিন বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বিমানবন্দরগুলো হলো—
- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট
- জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট
- ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট
নির্ধারিত এই পথ ছাড়া অন্য কোনো রুট দিয়ে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে তা ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত গ্রহণ করে, যাতে তারা ভিসার শর্ত—বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা—মেনে চলেন।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে ধরা হয়।
বেশিরভাগ দেশ ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ চাইলেও ফেরতযোগ্য জামানত ব্যবস্থা খুব একটা প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করলেও পরে তা বাতিল করে। একইভাবে যুক্তরাজ্য ২০১৩ সালে কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়।
