৩ সিটি দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে এই তিন সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।
ইসি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম এই তিন বড় সিটি করপোরেশনে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
আরো পড়ুন : রোজায় সুলভ মূল্যে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহের ঘোষণা
তবে পরে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আর এগোয়নি।
আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। সে হিসেবে গত বছরের ১ জুন পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ৩ জুন। এ সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে এই তিন সিটিতে নির্বাচন আয়োজন এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। এ কারণেই প্রথম দফায় এই সিটিগুলোতেই ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইসি সূত্র আরো জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়ার পরপরই ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনি কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটির ক্ষেত্রে সময় স্বল্পতার কারণে আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের মূল দায়িত্ব। তাই সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলেই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
