সার নিয়ে কারসাজি করলে কোনো ছাড় নেই: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, কৃষকেরা যাতে নির্বিঘ্নে কৃষিকাজ করতে পারেন, এ নিয়ে তারেক রহমানের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে সার নিয়ে কেউ সংকট সৃষ্টি ও কারসাজি করতে চাইলে তাদের সোজা আইনের হাতে তুলে দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
রোববার দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষি ঋণ মওকুফ সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষক উন্নত হলে দেশের উন্নতি হবে, কৃষক স্বাবলম্বী হলে দেশ স্বাবলম্বী হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। তাই সার নিয়ে সংকট ও কারসাজি করলে সে যে দলের হোক, যে মতের হোক, যে ধর্মের হোক, এই ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই, কোনো আপস নেই।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে খাদ্যসংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বহুমাত্রিক কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি প্রচলন করেন। ১৯৭৮-৭৯ সালে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় স্বল্প সুদে বিনা জামানতে কৃষি ঋণ ব্যবস্থা চালু করেন এবং ১০০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি কৃষি শস্য উৎপাদন তহবিল গঠন করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সালে এ খাতে ঋণের প্রচলন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি কৃষকদের বিভিন্ন খাতে নেওয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছিলেন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিটি বাড়ি হবে ক্ষুদ্র খামার, এ বিবেচনায় বিনা জামানতে গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ ইত্যাদি খাতে কৃষি ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ করেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বোদা উপজেলার ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কৃষি ঋণ মওকুফসহ হাতে সনদপত্র তুলে দেন। পরে প্রতিজনকে ৫টি করে ফলজ, বনজসহ ২৯ হাজার ৪৫০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সভাপতিসহ বোদা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের নিয়ে কৃষক আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।
