রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কিনা, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা বা বিচারিক কার্যক্রম চালানো যায় না। তবে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা ভোগ করেন। তবে সেই সুরক্ষা স্থায়ী নয়। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগ আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা যেতে পারে।
ডা. জাহেদ বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর অর্থ হলো, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি কোনো ফৌজদারি কার্যক্রমের মুখোমুখি হবেন না। কিন্তু দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো সাংবিধানিক বাধা থাকে না।
আরো পড়ুন : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা জানালেন সিইসি
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তার এই ব্যাখ্যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বর্তমান-সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে নয়। এটি বাংলাদেশের যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা।
বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। কোনো মামলা আদালতে গেলে তার বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।
তিনি বলেন, সরকার সব মামলায় নিয়ন্ত্রণ করে- এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক মামলায় সরকার নিজেই পক্ষ থাকে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। উচ্চ আদালতে বিভিন্ন রিটে সরকার পরাজিত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তাই বিচারিক কার্যক্রমকে স্বাধীন প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা উচিত।
