×

ভারত

মমতা

‘আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

‘আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একের পর এক ধাক্কা আসছে। তবে এত কিছুর পরেও দমে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বরং নিজের অবস্থানে এখনো অনড় তিনি। দলের ৮০ জন বিধায়কের (এমএলএ) বড় অংশই এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা উপদল গঠন করেছেন। অন্যদিকে লোকমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বরং নিজের অবস্থানে এখনো অনড় তিনি। দলের ৮০ জন বিধায়কের (এমএলএ) বড় অংশই এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা উপদল গঠন করেছেন। অন্যদিকে লোকসভা সাংসদরাও (এমপি) তৈরি করেছেন তৃতীয় আরেকটি জোট। ফলে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস কে?’ তা নিয়ে রীতিমতো টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মমতা। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে থামাতে হলে ‘‘খুন’’ করতে হবে।

দলীয় বিদ্রোহীদের স্পষ্ট ভাষায় ‘‘বিশ্বাসঘাতক’’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মমতা। তবে নিজের চিরচেনা মেজাজেই তিনি ঘোষণা করেছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তার অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। মমতার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদ্রোহীরা যদি ঘাসফুল প্রতীক নিজেদের করে নিতে চান তাহলে হয়তো সামনে তাদের একটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না। আমাকে যদি থামাতে চান, তবে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।’

এদিকে শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী আরও একটি বড় ধাক্কা খেয়েছেন। দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন। চন্দ্রিমা ছিলেন মমতার অনুগত হাতেগোনা কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে অন্যতম। পদত্যাগের পর এই বিধায়কও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলে যোগ দিয়েছেন। এই ঋতব্রতের সমর্থকেরাই গত শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল দলীয় কার্যালয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং তিনি যে পদত্যাগ করবেন তা তিনি আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। কারণ তার ছেলেও আগে তৃণমূল-বিরোধী শিবিরের সাথে হাত মিলিয়েছিল।’

বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টার পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তা সাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রায় পনেরো বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মমতা। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, কখনই বিদ্রোহীদের সাথে হাত মেলাবেন না।

মমতা বলেন, ‘সেটা (প্রস্তাব দেওয়া) তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তিনি তা করতেই পারেন। কিন্তু আমি কোনোভাবেই তাদের সাথে যোগ দেব না।’

তিনি দাবি করেন, বিদ্রোহীরা চাপের মুখে পড়েই দল ছেড়ে আলাদা হয়ে গেছে। মমতা আরও যোগ করেন, ‘তবে আমি বিজেপির কাছে মাথা নত করব না, আর আমার দলও কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বিদ্রোহীদের দখলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলব আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম। ২০২৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অফিসটি আমাদের নামে লিজ নেওয়া আছে। কোনো ব্যক্তি দল ছেড়ে চলে যেতেই পারেন, কিন্তু তাতে দল নামক প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না। এটি দলের সম্পত্তি। আমি চাইলেই এটা নিজের দখলে নিতে পারি না। ‘মা, মাটি, মানুষ’- এর সম্পত্তি কেউ এভাবে জোর করে কেড়ে নিতে পারবে না।‘

সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী ২০১১ সালে সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টকে উপড়ে ফেলেছিলেন। যা পরবর্তীতে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করে এবং বিজেপি সেই সুযোগটি কাজে লাগায়। মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলের আদর্শ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি) সম্পূর্ণ বিরোধী।

মমতা বলেন, ‘এই প্রতীক আমার দেওয়া। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনাদের মনোনয়নপত্রে সই করেছিলাম আমি নিজেই। নির্বাচনের পর দুই মাস পার হতে না হতেই আপনারা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতক হয়ে গেলেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। আপনারা এখন বিজেপির সাথে হাত মিলিয়েছেন, যা এভাবে চলতে দেওয়া যায় না; কারণ তৃণমূলের আদর্শই হলো বিজেপি-বিরোধী।’

তিনি আরও জানান, চন্দ্রিমার বিদায়ের পর তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য উভয় স্তরেই দলের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

একই সাথে মমতা ঘোষণা করেন, এখন থেকে তাঁর নিজের বাড়ির দলীয় কার্যালয়টিই তৃণমূলের প্রধান অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দল এবং মমতার নিজের পরাজয়ের পর থেকেই মূলত তৃণমূল কংগ্রেসে এই দলত্যাগের হিড়িক শুরু হয়। বিদ্রোহী বিধায়করা মমতার নেতৃত্ব দেওয়ার ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তারা এটিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দল ছাড়ার পেছনে মূল কারণ আসলে দলে তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ।

এরইমধ্যে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক (এমএলএ), ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ (এমপি) এবং অন্তত ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় তার এই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

চন্দ্রিমা তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার মনে সবসময় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকবে। তবে নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারস্পরিক আস্থার অভাবকেই দায়ী করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‌‘যেখানে কোনো বিশ্বাস নেই, কোনো আস্থা নেই, সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিক এই কারণেই আমরা পদত্যাগ করেছি।’

এদিকে, নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে তাদের নিজ নিজ দাবি ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নারী সাংবাদিককে কেন চুমু দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন মেসি?

নারী সাংবাদিককে কেন চুমু দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন মেসি?

কুয়াকাটায় এক ইলিশ প্রায় ৭ হাজারে বিক্রি

কুয়াকাটায় এক ইলিশ প্রায় ৭ হাজারে বিক্রি

৯ জেলায় বজ্রপাতের সতর্কতা

৯ জেলায় বজ্রপাতের সতর্কতা

এবার ২০২৫ সালের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ১০০ শিক্ষার্থী

এবার ২০২৫ সালের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ১০০ শিক্ষার্থী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App