এবার ২০২৫ সালের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ১০০ শিক্ষার্থী
রিয়াদ হাসান হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জামালপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন ১০০ শিক্ষার্থী। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা এ প্রশ্নপত্রে অংশ নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষার্থী তিলা জামালি বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রশ্নপত্রে ২০২৫ সালের সিলেবাসের উল্লেখ দেখতে পান তিনি। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। একটি ভুলের কারণে আমার ফলাফলে প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। অথচ আমরা ১০০ জন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলাম। এখন ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছি।’
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর জানান, কেন্দ্রে পাঠানো প্রশ্নপত্রের প্রতিটি বান্ডেলের গায়ে ২০২৬ সালের সিলেবাস উল্লেখ ছিল। তবে বান্ডেলের ভেতরে ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্র ছিল, যা মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত।
তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে বান্ডেলের ভেতরের প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়।
অধ্যক্ষ আরও জানান, শিক্ষা বোর্ড থেকে ওই ১০০ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, তাদের উত্তরপত্র ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের আলোকে নমনীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। সব মিলিয়ে এ কেন্দ্রে ৯০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, এর আগে নরসিংদীতেও এইচএসসি পরীক্ষার দুটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ছয় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ভিন্ন সেটের প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগও ওঠে।
