মোদির নীরবতায় ক্ষুব্ধ রাহুল, বললেন ক্ষমা চাইতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এ ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নির্মম দমন-পীড়ন’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পরও প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব রয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থীকে পুলিশ মারধর করেছে, তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী এখনো ক্ষমা চাননি। তার উচিত প্রকাশ্যে কথা বলা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করা।
এর আগে সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকট নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন রাহুল। তিনি লেখেন, গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্মমতা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে সরকারের জবাবদিহির অভাব সম্পর্কে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়া উচিত।
আরো পড়ুন : দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ, যে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলার কারণেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি সংসদে আলোচনা না হয়, তাহলে সংসদের উদ্দেশ্য কী?
তিনি বলেন, বিরোধী দল এ বিষয়টি চাপা পড়তে দেবে না। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই তুলে ধরতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সোমবার হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ অভিমুখে মিছিল করলে দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও সংসদে আলোচনা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নিরাপদ ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
