দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দাবি রাহুলের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নিট ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশি আটক এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানী দিল্লি।
বুধবারও (২২ জুলাই) এ ইস্যুতে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আভাস মিলেছে। খবর এনডিটিভির।
মঙ্গলবার লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। পরে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে। রাহুলকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে দুজনকেই মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান রাহুল গান্ধী। দাবিগুলো হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ওই দিনের দমনপীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এবং দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার।
আরো পড়ুন : দিল্লিতে বিক্ষোভ, রাহুলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অভিযোগ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? প্রশ্নপত্র কেন বারবার ফাঁস হচ্ছে? শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলো কেন আর্থিক সংকটে পড়ছে? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন এবং এসব প্রশ্ন তোলায় কোনো ভুল নেই।
তিনি জানান, পুরো বিরোধী জোট বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি তুলবে। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ধর্নাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে সংসদে আলোচনার আশ্বাস পেলে কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা বললেও পরে রাহুল নতুন করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলেন।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, রাহুল গান্ধীর মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার এভাবে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। সরকার নিট ও প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত সব বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার লক্ষ্যেই কংগ্রেস আন্দোলনকে ব্যবহার করছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘সরকার পূর্ণাঙ্গ আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানানোর পরও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক বিতর্কের বদলে রাজনৈতিক নাটক বেছে নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সমাধান নয়, বরং রাজনৈতিক শিরোনাম তৈরির জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।’
রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তার কাছে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নয়; বরং আলোচনার সব পথ খোলা থাকার পরও সংঘাত সৃষ্টি করাই তার লক্ষ্য।’
