ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া আলোচনার অর্থ নেই: ককরোচ মুখপাত্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থান আরো স্পষ্ট করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্র যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে রাজি না হয়, তাহলে পরবর্তী আলোচনা অর্থহীন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনো আপস হবে না। সরকার যদি এতে রাজি না হয়, তাহলে আর আলোচনার কোনো অর্থ নেই।” খবর এনডিটিভির।
শুক্রবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। ওই বৈঠকের পর জানানো হয়, শনিবার দুপুরে তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সিজেপির দাবিগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে তারা নিজেদের অবস্থান জানাবে।
সিজেপির তিনটি প্রধান দাবি হলো- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।
শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয় কেন্দ্র। এগুলো হলো, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
বৈঠক শেষে জে.পি. নাড্ডা বলেন, “প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। তারা তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা জানিয়েছি, শনিবার আবার বৈঠক করে সরকারের আলোচনার ফল তাদের জানাব।”
অন্যদিকে সরকারি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের মতে, পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে সূত্রটি জানায়, জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা তারা যথাযথভাবে পালন করবে।
আরো পড়ুন : ‘মোদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়’
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইনে আরো কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করতে আইন সংশোধনের পরিকল্পনাও করছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষা সচিবকে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ)-এর ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় শিগগিরই বড় ধরনের সংস্কারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট বলে মনে করছে না সিজেপি। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “এটি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু মূল দায় শিক্ষামন্ত্রীর। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের ঘটনার জন্য তিনিই সরাসরি দায়ী। তাই তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।”
