বিদেশযাত্রীদের মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, মেডিকেল সেন্টারকে জরিমানা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশগামী যাত্রীদের মেডিকেল পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়, রেজিস্ট্রার না থাকা এবং পরীক্ষা বা নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই ভুয়া মেডিকেল ফিটনেস সনদ দেওয়ার অভিযোগে সিলেট নগরের একটি মেডিকেল সেন্টারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট রোড এলাকায় অবস্থিত হিলভিউ মেডিকেল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ মিয়া।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বিদেশগামী যাত্রীদের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৮ হাজার ৫০০ টাকা হলেও হিলভিউ মেডিকেল সেন্টারে তা ১২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে অনলাইনে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে নামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: যৌনকর্ম বৈধতার দাবি, বললেন ‘এটিও এক ধরনের সমাজসেবা’
অভিযানকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ মেলে। কর্মকর্তারা দেখতে পান, মেডিকেল সেন্টারটিতে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। এমনকি কোনো কোনো বিদেশগামী যাত্রীর পরীক্ষা না করেই এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগেরও প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ মিয়া বলেন, “আমাদের কাছে অনলাইনে অভিযোগ আসে, হিলভিউ মেডিকেল সেন্টারে বিদেশযাত্রীদের মেডিকেল টেস্টের সরকার নির্ধারিত ফি ৮ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির কোনো রেজিস্ট্রার পাওয়া যায়নি। কোনো পরীক্ষা না করিয়ে, এমনকি নমুনা সংগ্রহ না করেও বিদেশযাত্রীদের ভুয়া মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর করা হবে না—প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এমন স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
