‘ভূতের’ ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ শিক্ষার্থী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার একটি সরকারি আবাসিক স্কুলে ‘ভূতে ধরার’ গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের ধারণা, এর পেছনে কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়; বরং ভয়, মানসিক চাপ ও কুসংস্কারের প্রভাব রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাই থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরের আদিবাসী-অধ্যুষিত মেলঘাট এলাকায় স্কুলটির অবস্থান। সেখানে ছেলে ও মিলে মোট ৮১০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুলাই। ওই দিন চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা কখনো কাঁদছিল, আবার কখনো হাসছিল। এরপর তাদের ‘ভূতে ধরেছে’ বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন শিক্ষার্থী নূপুরের শব্দ শোনার দাবিও করে।
পরবর্তী কয়েক দিনে আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়। হোস্টেলটি মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলটি পরিদর্শন করে। আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে হিস্টেরিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, কয়েকজন ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কারও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের একটি অংশের বিশ্বাস, স্কুল এলাকায় আগে থাকা একটি মহুয়া গাছে আত্মাদের বসবাস ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলায় আত্মারা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: আলু বিক্রি বাড়াতে দোকানে তরুণীর নাচ, ভাইরাল ভিডিও
আরেকটি গুজব ছড়ায়, স্কুলের পেছনে থাকা স্থানীয় দেবতার মন্দিরের জায়গার ওপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এ ছাড়া স্কুলের কাছের একটি মাঠে এক আদিবাসী তরুণের মৃত্যুর ঘটনাকেও শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসংস্কার, ভয়, মানসিক চাপ এবং আত্মা-ভূত নিয়ে স্থানীয় বিশ্বাসের সম্মিলিত প্রভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে কাজ করা মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির সদস্যরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে কাউন্সেলিং করেছেন। তারা ঘটনাটিকে কুসংস্কারের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান।
অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়াংখাড়েও শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে আবার ক্লাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করে ধীরে ধীরে স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী হোস্টেলে ফিরে এসেছে।
