তিস্তার পানি বেড়ে ঢুকছে ঘরবাড়িতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পাহাড় ও সমতলে টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিস্তর বেড়েছে। এর মধ্যে গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় পানি ছাড়ায় পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাবন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি ঢুকে পড়েছে নিচু এলাকার ঘরবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমিতে। হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গজলডোবা ব্যারেজ থেকে ছেড়ে দেওয়া পানি জলপাইগুড়ির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তার পানিস্তর আরও বেড়েছে। এতে জেলার খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকান্তনগর কলোনির খাল উপচে আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে জগন্নাথপুর, বাঘপোতা ও মানসতলা গ্রামের নিচু এলাকাগুলোও দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে।
তিস্তার পানি ঢুকে পড়ায় গ্রামগুলোর সড়ক, চাষের জমি ও ফুটবল মাঠে হাঁটুসমান পানি জমেছে। জগন্নাথপুর গ্রামের কয়েকটি বসতবাড়ির ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। তিস্তার পানিস্তর আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বন্যার কারণে কৃষকরাও চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। চাষের জমিতে পানি উঠে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিল সামন্ত বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। জগন্নাথপুরের ছোট-বড় অঙ্গনা এলাকা হয়ে মানসতলার নিচু অংশে দ্রুত পানি ঢুকছে। এখন ধান চাষের সময় হওয়ায় বন্যায় কৃষিকাজ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তিনি জানান, গ্রামের সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক বাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিকুর রহমান বলেন, নিম্নচাপের কারণেই তিস্তার পানি বেড়েছে। গতকাল থেকে অনেকেই কাজের জন্য বাইরে যেতে পারছেন না। মাঠ, কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। চাষের জমির ধানও পানির নিচে চলে গেছে।
পানিতে ফসল ও অন্যান্য জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় পানির মধ্য দিয়েই বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
